ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানে দীর্ঘায়ুর রেকর্ড, শতবর্ষী মানুষ লাখের বেশি

জাপানে দীর্ঘায়ুর রেকর্ড, শতবর্ষী মানুষ লাখের বেশি
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪২

জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, বর্তমানে জাপানে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন শতবর্ষী মানুষ রয়েছেন। তাদের ৮৮ শতাংশই নারী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে জাপান। দেশটির সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী কিশিমোতো ফুয়ো। কিয়োটো শহরের এই নারীর বয়স ১১৪ বছর। আর সবচেয়ে বেশি বয়সী পুরুষ কুমামোতো এলাকার কাটো হিকারু, তার বয়স ১১২ বছর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উয়েনো বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন- এটি আনন্দের বিষয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে দেশের সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা টেকসই রাখা নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

দীর্ঘায়ুর পেছনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির প্রচলিত খাবারে মাছ, শাকসবজি ও ভাতের প্রাধান্য বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক খাবারের তুলনায় এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও কম।

বয়স্ক জাপানিরাও নিয়মিত হাঁটেন, গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীর স্ট্রেচিংয়ের মতো ব্যায়াম করেন।

জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য নতুন নতুন পণ্যও তৈরি করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়ায় সহায়তা করার জন্য চালিত এক্সোস্কেলেটন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাস পরিবর্তন করতে পারে এমন চশমাও রয়েছে।

বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা, কমছে জন্মহার
জাপান কয়েক দশক ধরে দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দেশে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে জন্মহার কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত বছর দেশটির মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমে আসে। একটি দেশের জনসংখ্যা নিজেদের মধ্যে প্রতিস্থাপনের জন্য একজন নারীর গড়ে ২ দশমিক ১টি সন্তান জন্ম দেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালে জাপানের জনসংখ্যা কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। অর্থাৎ ওই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে জনসংখ্যা।

জাপান সরকার এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তরুণদের সন্তান নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভর্তুকি দেওয়া হলেও জন্মহার বাড়াতে সেগুলোর তেমন সাফল্য দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বিয়ে, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান পালনের বাড়তি ব্যয়সহ নানা কারণে জন্মহার কমছে।

১৯৬৩ সালে শতবর্ষী ছিলেন মাত্র ১৫৩ জন
জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। সে সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৮১ সালে তা ১ হাজারে এবং ১৯৯৮ সালে ১০ হাজারে পৌঁছায়।

এবারের হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে জাপানের বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা’ দিবসের আগে। এ উপলক্ষে দেশটির সরকার ১০০ বছর বয়সে পৌঁছানো ব্যক্তিদের চিঠি ও ঐতিহ্যবাহী একটি কাপ উপহার দিয়ে সম্মান জানায়।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×