ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, বিভাগীয় প্রধানকে অব্যাহতি

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, বিভাগীয় প্রধানকে অব্যাহতি
×

ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে দায়িত্ব পালন ও অনিয়মের অভিযোগে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মনিরুল হককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশ সূত্রে মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস আদেশে জানানো হয়, অধ্যাপক মোহা. মনিরুল হককে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর মূল কর্মস্থল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমানকে প্রেষণে স্বপদে ও স্ববেতনে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষার এই অনিয়ম অনুসন্ধানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম. আসাদুল হক এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উপউপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনিকভাবে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক সমকালে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়ম ভেঙে বাবা ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক, ছেলে হলেন অষ্টম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অধ্যাপক মনিরুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের অংশ নেন। ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, নিকটাত্মীয় পরীক্ষা দিলে তা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং পরীক্ষার দায়িত্বে না থাকার বিধান রয়েছে। অধ্যাপক মনিরুল হক তা না জানিয়ে উল্টো সি ইউনিটের কোঅর্ডিনেশন কমিটি ও ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ছেলের গ্রুপের ব্যবহারিক পরীক্ষার পরিদর্শকের দায়িত্বও পালন করেন। এতে বহুনির্বাচনীতে ৩,২৫৫তম হওয়া তাঁর ছেলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম স্থান অর্জন করেন। সমকালের ওই সংবাদ প্রকাশের পরে নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন

×