ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে জন্মের পর মায়ের সঙ্গে কাটল ৭ বছর, অবশেষে মুক্ত মোবাশ্বেরা

কারাগারে জন্মের পর মায়ের সঙ্গে কাটল ৭ বছর, অবশেষে মুক্ত মোবাশ্বেরা
×

মায়ের সঙ্গে মোবাশ্বেরা

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৭ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৩

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে এলো সাত বছরের শিশু মোবাশ্বেরা। কারাগারই ছিল তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার ঠিকানা। বাইরের পৃথিবী কেমন, তা জানার সুযোগ হয়নি। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে মা কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পাওয়ার দিন মোবাশ্বেরারও শেষ হলো কারাজীবন।

কারাগারের ফটকের বাইরে তখন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের স্বজনদের ভিড়। কেউ ফুলের মালা পরিয়ে, কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রিয়জনকে বরণ করছিলেন। কেউ আবার দীর্ঘদিন পর স্বজনকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন। এর মধ্যেই মায়ের হাত ধরে ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে মোবাশ্বেরা। সাত বছর যে জগতকে সে চিনেছে, সেটি পেছনে ফেলে এবার শুরু হলো তার নতুন জীবন।

২০১৯ সালে ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময় কামরুন্নাহার মনি ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই জন্ম নেয় মোবাশ্বেরা। এরপর মায়ের সঙ্গে কারাগারেই কেটে যায় তার শৈশবের সাত বছর।

কারাগার থেকে মুক্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামরুন্নাহার মনি। মেয়ের কারাজীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের জন্ম কারাগারেই, সাতটি বছর কারাগারেই ছিল। কারাগারে তাকে আমি দ্বিতীয় শ্রেণির বই পড়াচ্ছি, কোরআনের একটি পারা মুখস্থ করিয়েছি, কোরআন পড়তে শিখিয়েছি। আমার সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করেছি।’

মেয়ের পড়াশোনার জন্য কারাগারের ভেতরেই নিজের মতো করে ব্যবস্থা করেছিলেন মনি। তিনি বলেন, ‘আমি একটি জামা কেটে তাকে একটি স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সে স্কুলে যেত তিনটি বই নিয়ে। স্কুলব্যাগ কেমন হয়, সে তো জানে না। স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, তা আমি তাকে কারাগারের ভেতর থেকেই শিখিয়েছি।’

মোবাশ্বেরার শৈশব আর অন্য শিশুদের মতো নয়। কারাগারের পরিবেশ, মায়ের সঙ্গ আর সীমিত পরিসরই ছিল তার পৃথিবী। সেখানেই পড়াশোনার হাতেখড়ি, মায়ের কাছ থেকে কোরআন শেখা এবং বেড়ে ওঠা। কারাগারের চার দেয়ালের বাইরে বিশাল পৃথিবীটি এখন তার কাছে একেবারেই নতুন।

মনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যে বাইরের জীবনটা, তাকে বাইরে দিয়ে দিলে সে ভালো থাকত না। সন্তান মা ছাড়া কখনো ভালো থাকে না। মা যেভাবে যত্ন করে রাখে, কখনো কেউ রাখে না। মা হচ্ছে একটা চাদর।’

এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় কামরুন্নাহার মনিসহ আটজন খালাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়া অন্যরা হলেন মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আব্দুর রহিম শরীফ।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জাকির হোসেন বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×