বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত আমারই ছিল: আসিফ নজরুল
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৫
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে না খেলার সেই সিদ্ধান্ত মূলত তারই ছিল বলে জানিয়েছেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে এত দিন পর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার কারণ খুঁজতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। অপর দুই সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
প্রতিবেদনে বিশ্বকাপ বয়কটের দায় কার-এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ছিল।
প্রতিবেদনের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির নেওয়া উচিত নয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, প্রতিবেদনে যে ‘একজন ব্যক্তি’র কথা বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বিশ্বকাপে না খেলার মূল দায় কার-এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির প্রধান ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এর বাইরে আর কী বলব!’

‘সিদ্ধান্তটি মূলত আমারই ছিল’
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এত দিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’
বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি লেখেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা থেকেই বিষয়টির সূত্রপাত। এরপর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের আশঙ্কার পক্ষে আইসিসির একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। তার ভাষ্য, ওই প্রতিবেদনে ভারতে নিরাপত্তাঝুঁকির তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল- বিশ্বকাপ দলে মোস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকেরা মুক্তভাবে চলাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে।
বিশ্বকাপ অন্য কোনো দেশে আয়োজনের ভেন্যুতে খেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান আসিফ নজরুল।
তিনি লিখেছেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু হয়তো আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।’
ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সেগুলো হলো- ‘দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।’
তখন বিশ্বকাপে না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা করা হলেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন উদ্যোগে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন আসিফ নজরুল। তিনি লিখেছেন, ‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সব সময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব- এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।’
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেওয়াতে না।’
- বিষয় :
- খেলা
- ক্রিকেট
- আসিফ নজরুল