সার বিক্রিতে ডিলারের কমিশন বাড়াল সরকার, কৃষকের দাম অপরিবর্তিত
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১১
সার বিক্রিতে ডিলারের কমিশন বাড়িয়েছে সরকার। ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডায়ামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সারের ক্ষেত্রে ডিলারদের কমিশন প্রতি কেজিতে দুই টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এসব সারের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গত সোমবারের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের জারি করা আদেশে ডিলার পর্যায়ের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণ শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ডিলাররা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মূল যুক্তি ছিল সার পরিবহন, লোডিং ও আনলোডিংয়ের খরচ বেড়ে যাওয়া। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন বাড়ানো হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়ার দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়ার দাম আগের মতোই ২৭ টাকা থাকবে। অর্থাৎ ডিলার ও কৃষক পর্যায়ের দামের ব্যবধান এখন প্রতি কেজিতে ৩ টাকা। ডিএপির ডিলার পর্যায়ের দাম ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ টাকা করা হয়েছে। কৃষকের জন্য দাম থাকছে ২১ টাকা। টিএসপির ডিলার পর্যায়ের দাম ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে; কৃষক পর্যায়ে দাম ২৭ টাকা। আর এমওপির ডিলার পর্যায়ের দাম ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৭ টাকা করা হয়েছে; কৃষকের জন্য দাম থাকছে ২০ টাকা। অর্থাৎ চার ধরনের সারের ক্ষেত্রেই ডিলার পর্যায়ের দাম ১ টাকা করে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক পর্যায়ের দাম অপরিবর্তিত থাকায় ডিলারদের কমিশন প্রতি কেজিতে ১ টাকা বাড়ছে।
সরকারি হিসাবে, কৃষকেরা ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা দরে কিনছেন। নতুন সিদ্ধান্তে এই দামগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে ডিলার পর্যায়ে দাম কমানোর মাধ্যমে কমিশনের হিসাবটি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রতি কেজি সারে ডিলারদের আয় ১ টাকা বাড়বে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর অন্যতম কারণ হলো গত কয়েক বছরে সার পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি। তবে একই সঙ্গে সার বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখা এবং কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করাও জরুরি।
সার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে ডিলার নিয়োগ, মজুত, পরিবহন ও বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সংকটের সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ ওঠে।
- বিষয় :
- সার
- কৃষি মন্ত্রণালয়
- অর্থ মন্ত্রণালয়