ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে মারধরের শিকার বাদী, বাবা-ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ

আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে মারধরের শিকার বাদী, বাবা-ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ
×

ফাইল ছবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৩ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৫

পটুয়াখালী জজ আদালতে একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন এম এ খায়ের মোল্লা ওরফে বাচ্চু মোল্লা নামে এক বাদী। পরে তাঁকে এবং তাঁর ছেলে মো. রেদোয়ানকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির ক্যাফেটেরিয়া এবং আদালত চত্বরে দুই দফা এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

বাচ্চু মোল্লা গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার শ্রীযুতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন মামলায় তিনি যৌথভাবে আসামি বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘রোজভ্যালি মোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন রানার সঙ্গে বাচ্চু মোল্লার দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা চলছিল। ওই মামলার সাক্ষ্য দিতে বাচ্চু মোল্লা তাঁর ছেলেকে নিয়ে মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় বেলা ১১টার দিকে আইনজীবী সমিতির ক্যাফেটেরিয়ায় বসে প্রথম দফা এবং দুপুর ১টার দিকে সাক্ষ্য প্রদান শেষে দ্বিতীয় দফায় তাঁকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী জানান, রিসোর্টটির প্রকৃত মালিক জসিম উদ্দিন রানা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাচ্চু মোল্লা তা অবৈধভাবে দখল করেছিলেন। এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যবসায়ী বিরোধ এবং এর সঙ্গে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 

পটুয়াখালী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন জানান, ক্যাফেটেরিয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার কথা তিনি শুনেছেন। বাচ্চু মোল্লার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খায়ের মোল্লা ওরফে বাচ্চু মোল্লা ও তাঁর ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাচ্চু মোল্লার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা– তাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×