ইয়েমেনে লড়াইয়ের মুখে ঘরছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ
ছবি: আল-জাজিরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:২৮
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের মধ্যে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
সংঘাতের কারণে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়লেও অনেক পরিবার এখনো যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে আছে। বিশেষ করে মোচা বন্দরনগরীর আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
বাস্তুচ্যুত নারী আয়েশা মুহাম্মদ জানান, গত সপ্তাহে তার গ্রামের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ার পর তিনি পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখেই পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।
আয়েশা বলেন, সন্তানদের গ্রামে আটকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। তাই কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। কেবল ভাত রান্না করে খেতে হচ্ছে। রুটি বা অন্য কোনো খাবার নেই।
হোদেইদাহ থেকে পালিয়ে আসা হুসেইন হায়দারা বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাকে হঠাৎ করেই ঘর ছাড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ ছিল না। গোলাবর্ষণ ও স্নাইপারের গুলির ভয়ে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দ্রুত পালিয়ে যেতে হয়েছে।
তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ওমানের নৌবাহিনী ২৩ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পর দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়ছে। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা