স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৯, চলছে উদ্ধার অভিযান
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা, রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:৫৫
স্পেনে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ হয়েছে। বুধবারের এ দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে দুর্ঘটনাস্থলে রাতভর ক্রেন দিয়ে ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। উল্টে যাওয়া একটি বগিতে বিশেষভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে ক্রেনের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউরোপে ২০১৩ সালে স্পেনের সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলায় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির পর এটিকে মহাদেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে স্পেনের সাবেক শ্রমমন্ত্রী ফাতিমা বাঞেজও রয়েছেন। তিনি দেশটির নিয়োগকর্তাদের সংগঠনের সামাজিক ও করপোরেট দায়বদ্ধতা বিভাগের প্রধান ছিলেন।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় সাতটি দেশের ৪২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে তাদের মধ্যে একজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৭ জন তখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংকেতব্যবস্থার ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। তার ভাষ্য, কয়েকটি ট্রেন সংকেতসংক্রান্ত সমস্যার কারণে থেমে গিয়েছিল। পরে রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও সামনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
তবে দেশটির সরকার বলেছে, রেনফের ট্রেনটিকে চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ব্যাখ্যাতীত’। পরিবহনমন্ত্রী অবশ্য স্পেনের রেলব্যবস্থাকে অনিরাপদ বলার সমালোচনা নাকচ করেছেন।
রেলচালকদের সংগঠন সেমাফের প্রতিনিধি দিয়েগো মার্তিন বলেন, রেল খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দুর্ঘটনার পরও আগে থেকে নির্ধারিত ধর্মঘট চালিয়ে যান রেলচালকেরা। এতে দেশটির বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
রেল ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। জানুয়ারির আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও এপ্রিলে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি তাদের।
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে ৮০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য, দুই শতাধিক যানবাহন, তিনটি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তোলেদোর একজন বিচারক।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষ দিনরাত কাজ করছে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক জানিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন পোপ লিও।
সূত্র: রয়টার্স
- বিষয় :
- স্পেন
- ট্রেন
- সংঘর্ষ
- নিহত
- রাষ্ট্রীয় শোক
- নিরাপত্তা দাবি