ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানতে পারে সিনেটের ৭ আসনের লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন

ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানতে পারে সিনেটের ৭ আসনের লড়াই
×
×

নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সম্প্রতি মিশিগানে। ছবি: এএফপি

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৫ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৫৮

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দৌড়ে ডেমোক্র্যাটরা অনেকটাই এগিয়ে। তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে নিয়ন্ত্রণের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলই মনে করছে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে কয়েকটি আসনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলের ওপর। জনমত জরিপেও এসব আসনে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান খুব কম। ফলে আগামী সপ্তাহে কোন দল জয়ী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

বর্তমানে সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের ৪৭ আসনের বিপরীতে ৫৩ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে আছে রিপাবলিকানরা। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাইলে চারটি আসন বাড়াতে হবে।

এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে দুটি করে সিনেট আসন থাকে। এর মধ্যে আগামী ৩ নভেম্বর দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে পুনর্নির্বাচন হবে। 

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে কেবল নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের স্পষ্ট এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে সিনেটের একটি শূন্য আসনে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ‘কুক পলিটিক্যালের’ প্রতিবেদনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাত আসনের মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনা নেই। নির্বাচনে প্রতিযোগিতার মাত্রা ও ফলাফল বিশ্লেষণ করার নির্দলীয় সংস্থাটি নর্থ ক্যারোলাইনার বাইরের সাতটি আসনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব আসনে যেকোনো প্রার্থী জিততে পারেন। ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

অঙ্গরাজ্যগুলো হলো- মিশিগান, আলাস্কা, টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, কানসাস ও মেইন।

আসনগুলোর মধ্যে কেবল মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের হাতে আছে। বাকিগুলো রিপাবলিকানদের। সিনেটে ৫৩-৪৭ এর হিসাব বদলাতে হলে সাত আসনের মধ্যে অন্তত চারটিতে জিততে হবে ডেমোক্র্যাটদের।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা যদি সাতটি আসনেই জয়ী হয় তাহলে বারাক ওবামা প্রশাসনের পর সিনেটে দলটির সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা সাতটি আসনেই জিতলে সিনেটে তাদের বর্তমান ৫৩ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে। 

মিশিগান: রিপাবলিকানদের আসন বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ মিশিগানে। অগাস্টে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে জয়ী হওয়া আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স।

তবে কিছু ডেমোক্র্যাট আবদুলকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তারা ইসরায়েল নিয়ে আবদুলের কঠোর সমালোচনা ও মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলার পর বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করছেন।

অঙ্গরাজ্যটি থেকে গত কয়েক দশকে কোনো রিপাবলিকান সিনেটর হতে পারেননি। ফলে আবদুলের জয়ের সম্ভাবনা এখনো আছে। ডেমোক্র্যাটের নির্বাচনী দুই কৌশলবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জনমত জরিপ ও আগাম ভোটের প্রবণতা বিবেচনায় তারা মিশিগানে জয়ের ব্যাপারে কিছুটা বেশি আশাবাদী। 

আলাস্কা: এখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা। তিনি কংগ্রেসের সাবেক সদস্য। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকানের বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভান। তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অঙ্গরাজ্যটি ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম ভুক্তভোগী।

টেক্সাস: রিপাবলিকানদের কাছে এই অঙ্গরাজ্যটি সবচেয়ে বড় হতাশার নাম। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় (প্রাইমারি) প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন সিনেটর জন করনিন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দেন। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তটি আসন হারানোর মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে তখনই সতর্ক করেছিলেন অনেকে।

প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেমস তালারিকো। তিনি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটের সদস্য। এখানে তালারিকো জিতলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সিনেটর পাবে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে দুই পক্ষই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।

ওহাইও: অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ১৮ বছর ধরে সিনেটর ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা শেরড ব্রাউন। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান। ব্রাউন এ বছরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের সঙ্গে। গত বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে হাস্টেডকে নিয়োগ দেন গভর্নর মাইক ডিওয়াইন।

এই আসনের নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। শ্রমিক দিবস থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ হবে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার।

আইওয়া: সিনেটের এই শূন্য আসনে লড়ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাটের জশ টুরেক। বারাক ওবামাকে টানা দুইবার ভোট দেওয়া অঙ্গরাজ্যটি ট্রাম্পের আমলে ক্রমেই রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছে।

কানসাস: বছরের শুরুতে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের ব্যাপারে তেমন আভাস ছিল না। কারণ, অঙ্গরাজ্যটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে রিপাবলিকানদের দখলে। তবে নির্বাচনের আগের জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে।

মেইন: ২০২০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল ডেমোক্র্যাটরা। কলিন্স এবার ষষ্ঠ মেয়াদের জন্য লড়ছেন। তাঁকে হারানোর চেষ্টায় দুই দফায় প্রার্থী পরিবর্তনের পর ট্রয় জ্যাকসনকে চূড়ান্ত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। 

আরও পড়ুন

×