ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিন্ধুর দুই দ্বীপ চীনকে উপহার দিচ্ছে পাকিস্তান?

সিন্ধুর দুই দ্বীপ চীনকে উপহার দিচ্ছে পাকিস্তান?
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ০১:৫০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ০৩:৫৩

চীনের দাবি মেটাতে পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার সিন্ধু প্রদেশের সরকার বা সেখানকার জনগণের সম্মতি ছাড়াই এই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত বুদ্ধো ও বুন্দল দ্বীপ একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংবিধানের ১৭২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সিন্ধু সরকার কিংবা সেখানকার জনগণের অনুমতি ব্যতীত সেখানে কোনো মেগা প্রকল্প চালু বা ওই অঞ্চল দখলের অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। এ কারণে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রচেষ্টা কেবল সংবিধানের পরিপন্থি নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও চুক্তিরও বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থসংকটে জর্জরিত পাকিস্তান সরকারের এমন আচরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য হয়তো চীনকে সহযোগিতা করে তাদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নেওয়া। তবে এর মধ্য দিয়ে চীন দ্বীপ দুটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে আরব সাগরে তাদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হবে।

গত বছর চীন সফরকালে ইমরান খান সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের উপকূলে বিভিন্ন দ্বীপের উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চীনও দ্রুত সেখানে কমপক্ষে আটটি দ্বীপের উন্নয়ন করতে রাজি হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে পাকিস্তানের গওয়াদার ও করাচি শিপইয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করা চীনের প্রকৌশলীরা দ্বীপগুলো কীভাবে উন্নত করা যায় সে ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করাচি এবং গওয়াদারের বর্তমানে যে গতিতে কাজ হচ্ছে তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে বিশ্ব আরব সাগরে চীনা সাবমেরিন ঘাঁটি দেখতে পাবে। বুদ্ধো ও বুন্দল দ্বীপ দুটিও ওই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

এদিকে করাচির দক্ষিণাঞ্চলের বুদ্ধো ও বুন্দল দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য পাকিস্তান দ্বীপপুঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (পিআইডিএ) অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। পাকিস্তানের রাজনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন অধ্যাদেশ জারির কারণে বুন্দল ও বুদ্ধো দ্বীপ পুরোপুরি চীনের কব্জায় চলে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। তাদের মতে, চীনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বিশেষভাবে ওই অধ্যাদেশ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিন্ধু ও বেলোচিস্তান প্রদেশে উপকূল নিয়ে বড় পরিকল্পনার অংশ এই অধ্যাদেশ। পিআইডিএ'র নেতৃত্বে কিছু উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা থাকবেন ওই প্রকল্পে। তাদের কাজই হবে যে কোনও স্থানীয় প্রতিরোধকে দমন করা।

পিআইডিএর অধ্যাদেশ জারির পর সিন্ধু সরকার, নেতৃবৃন্দর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দল ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিন্ধুবাসীর কাছ থেকে দ্বীপ দুটি দখল করে চীনের কাছে হস্তান্তর পাকিস্তানের জন্য কোনোভাবে কল্যাণকর হবে না। এটা হবে ইমরান খানের 'রাজনৈতিক অদক্ষতার' পরিচয়। তাদের ভাষায়, উন্নয়ন সহায়তার নামে ইমরান খান চীনের কাছ থেকে যে তহবিল আশা করছেন তা বরং সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে তুলবে।

তারা বলছেন, এ দুটি দ্বীপ দিয়ে কেবল শুরু। এর পরে সিন্ধু ও বেলুচিস্তানে বেশ কয়েকটি অঞ্চলও একইভাবে চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এখন সিন্ধুবাসী তাদের সম্পত্তি অন্য কারও স্বার্থে দিতে চায় কিনা সেটা তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে চীনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় তাহলে হয়তো এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

×