মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান
কে এই জেনারেল মিন অং লাইং
জেনারেল মিন অং লাইং
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ২১:৫৫ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৪:১৭
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যদিও গত ১০ বছর ধরে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্রমে ক্রমে ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছিল, কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা দেশটির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ ঠিকই বজায় রাখে। আর এর পিছনে ছিলেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল মিন অং লাইং।
মিন অং লাইং এর বয়স এখন ৬৪ বছর। সৈনিক জীবনের শুরুতে একজন ক্যাডেট হিসেবে খুব চোখে পড়ার মত কেউ ছিলেন না তিনি। ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেন। তিনি স্বল্পভাষী এবং নিজেকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন।
লাইং যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখন মিয়ানমারে নানা ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ছিল। কিন্তু এসব থেকে দূরে থাকতেন তিনি। অন্য ছাত্ররা যখন বিক্ষোভে যোগ দেয়, তখন তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস একাডেমি নামে সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবার জন্য চেষ্টা করেন। তিন দফা চেষ্টার পর সফল হন ১৯৭৪ সালে।
তার এক সহপাঠী রয়টার্সকে বলেন, ক্যাডেট হিসেবে লাইং ছিলেন গড়পড়তা ধরনের। তার প্রমোশন হচ্ছিল ধীর গতিতে, তবে নিয়মিতভাবে। অফিসার কোরের মাঝারি স্তর ছাড়িয়ে মিন অং লাইং যখন ওপরে উঠে গেলেন, তখন বেশ বিস্মিত হন তার এই সহপাঠী। লাইং সামরিক বাহিনীর প্রধান হন ২০১১ সালে, ঠিক সেই সময় যখন গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের যাত্রা হয়।

ইয়াঙ্গুনের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স আরও জানায়, ২০১৬ সালে যখন অং সান সুচির দল প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন মিন অং লাইং একজন স্বল্পভাষী সৈনিক থেকে নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ তুলে ধরেন। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বৌদ্ধ আশ্রম সফর ইত্যাদি ফলাও করে প্রচার হতো তার ফেসবুক পেজে। ফলোয়ারের সংখ্যা বেড়ে হয় কয়েক লাখ।
কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে ফেসবুকে সেই পেজটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
ওই অভিযানের ফলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ওই অভিযানের সময় গণহত্যা, গণধর্ষণ, ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ঘটেছে বলে অভিযোগ আনেন। মিন অং লাইংসহ চারজন সামরিক নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, জেনারেল মিন অং লাইং বিভিন্ন দেশে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের মত যাতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতেন।
মিয়ানমারের পার্লামেন্টে ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। সুচির প্রেসিডেন্ট হবার ওপর সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা এবং পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা মিন অং লাইংয়ের মধ্য কখনোই দেখা যায়নি।
- বিষয় :
- মিয়ানমার
- মিন অং লাইং
