প্রশ্ন ফাঁসে মেধাবীদের দীর্ঘশ্বাস
রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমান সময়ে চাকরি হলো সোনার হরিণ। যে হরিণের পেছনে ছুটছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। যে কোনো ধরনের চাকরি পেতে কারও প্রচেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে আমাদের দেশে সরকারি চাকরির বাজারে এখন অনেক প্রতিযোগিতা। যে কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেই একটি পদের বিপরীতে লড়াই করছে হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত যুবারা। অধিকাংশের মধ্যে যোগ্যতার অভাব না থাকলেও কাজের সুযোগ কম থাকায় তারা চাকরি পাচ্ছে না। এতে অনেক মেধাবী যুবা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় তাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা আর ক্ষোভ। আবার অনেকে হয়ে পড়ছে বিপথগামী। এদিকে বেকারত্ব ও হতাশার এই গল্পের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসে ঢুকে পড়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপসংস্কৃতি। দীর্ঘদিন ধরে তা চলছে। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতা সমাজের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার আগের রাত এলেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নের সন্ধানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে চাকরিপ্রার্থী অনেকে। কখনও প্রকৃত প্রশ্নপত্রে এসব সামাজিক মাধ্যম সয়লাব হয়ে পড়ে, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হয়। সরকারি কর্মক্ষেত্রে যদি অদক্ষ কিংবা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে চাকরি পাওয়া মানুষ ঢুকে পড়ে তাহলে জাতির অগ্রগতি থেমে যাবে।
তদন্তের সময় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাইরেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ছাপানো হয়, সেখানকার কর্মচারীদের মাধ্যমেও তা ফাঁস হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। কখনও প্রশ্নপত্র তৈরিতে যারা যুক্ত তাদের হাত করার চেষ্টা করছে আবার কখনও পরীক্ষা চলাকালীন অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে বাইরে প্রশ্ন এনে দ্রুত উত্তর পাঠানোর চেষ্টা করছে। এভাবে তারা পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন মেধাবী, দক্ষ কর্মী হারাচ্ছে, তেমনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে হতাশা। রাষ্ট্রের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছে। মেধা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও টাকার কাছে, ক্ষমতার কাছে তারা পরাজিত হচ্ছে। এই দুঃখ, কষ্ট শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে হুমকির মুখে ফেলছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সিআইডি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
তৎপরতায় সারাদেশ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে যদি দেশের বিদ্যমান আইনে তাদের শাস্তি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে কিছুটা হলেও এই দুর্নীতি কমে আসবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপাসহ প্রতিটি পর্যায়ে সৎ এবং যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
nরিয়াদ হোসেন: শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা।
[email protected]
- বিষয় :
- প্রশ্নফাঁস
