ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

তরুণদের ওপর ভার্চুয়াল জগতের প্রভাব

তরুণদের ওপর ভার্চুয়াল জগতের প্রভাব
×

ফারহানা মুনমুন 

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের ফলে নতুন প্রজন্মের আদর্শ ও জীবনযাত্রায় এক নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে তরুণ সমাজ যেখানে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ, শিক্ষক বা মনীষীদের জীবনসংগ্রাম ও নৈতিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হতো, বর্তমান সময়ে সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যমের কৃত্রিম জগৎ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দ্বারা তৈরি ‘ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার’ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জমকালো কনটেন্ট তরুণদের সামনে এক অবাস্তব ও নিখুঁত জীবনের ছবি তুলে ধরছে। বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক ব্যর্থতা, ক্লান্তি ও সংগ্রামের বিপরীতে ভার্চুয়াল জগতের এই সাজানো সাফল্য ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের একপেশে প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের মনে গভীর হতাশা, অপ্রাপ্তি এবং তীব্র আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতি নাটকীয় ও অতিরঞ্জিত সাফল্যের গল্প যেমন–বিসিএস বা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পর অতিনাটকীয় কষ্টের কাহিনি তরুণদের ব্যাপকভাবে বিভ্রান্ত করছে। তারা ভেতরের দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও পারিবারিক সমর্থনকে আড়াল করে শুধু বাইরের চাকচিক্যকে জীবনের মানদণ্ড বানিয়ে ফেলছে। ফলে তৈরি হচ্ছে আত্মমূল্যায়নের এক ভ্রান্ত সামাজিক পরিমাপক, যেখানে মেধা ও মানবিক যোগ্যতার চেয়ে লাইক, কমেন্ট ও ফলোয়ারের সংখ্যা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং ভার্চুয়াল পরিচিতির মোহ তরুণদের ভয়াবহ উদ্বেগ ও মানসিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে তারা ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতিতে অন্ধ অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ বর্জন বা এককভাবে দোষারোপ করাও এই সংকটের সঠিক সমাধান নয়। এআই এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। 
এ লক্ষ্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সন্তানদের বোঝাতে হবে যে পর্দার জীবন একটি পরিকল্পিত উপস্থাপনা মাত্র; সত্যিকারের সফলতা আসে ধারাবাহিক পরিশ্রম, ব্যর্থতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রযুক্তিগত সচেতনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী না বানিয়ে উন্নয়নের সহযাত্রী করা সম্ভব। প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, মানবিক মূল্যবোধ ও সত্যিকারের সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।

ফারহানা মুনমুন: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ 
[email protected]

আরও পড়ুন

×