ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কৃষি অবহেলিত কেন

কৃষি অবহেলিত কেন
×

মো. শাহিন আলম

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের মধ্যে পেশাকে সামাজিক মর্যাদার মানদণ্ডে মূল্যায়ন করার প্রবণতা রয়েছে, যা মানসিক বৈকল্যের বহিঃপ্রকাশ। পেশা কখনও মহৎ হতে পারে না; মহৎ হন ব্যক্তি। আর সেই ব্যক্তি যে কোনো পেশায় নিযুক্ত থাকতে পারেন। অথচ সামাজিক কাঠামোতে এমন মানসিকতা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে কিছু পেশাকে অযৌক্তিকভাবে উচ্চে এবং কিছু পেশাকে নীরবে নিচু পর্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই মানসিকতার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় কৃষি ও কৃষকের পেশার অবমূল্যায়নে। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ জীবনের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে কৃষির ওপর।
এই মানসিক সংকট শুধুই যে ব্যক্তিগত সংকোচ, তা বলা যাবে না। বরং এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও কাঠামোগত মানসিকতার ফল। গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় এ সংকট দেখেছি। বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, অনেক কৃষক নিজেদের পেশাকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছেন। তারা ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে বেরিয়েও যাচ্ছেন। যারা এখনও এই কর্মে নিযুক্ত; কম-বেশি তাদের অনেকেই চান না তাদের সন্তানরা অন্তত এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করুক। সন্তানরা যেন অন্য কোনো উপায়ে বা পেশায় জীবনের নিরাপত্তা খুঁজে পান। 

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫ অনুযায়ী, দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মোট শ্রমশক্তির ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এখনও প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। যদিও বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে জিডিপিতে এ খাতের অবদান তুলনামূলক কিছুটা কমছে, তবুও কর্মসংস্থানের দিক থেকে জনশক্তি- নির্ভরতা এখনও স্থিতিশীল।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতির পেছনে একটি প্রধান প্রাকৃতিক শক্তি বা উৎস কাজ করে। যেমনটা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তেল ও গ্যাসকে তাদের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় কৃষির বিকল্প কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ এই মুহূর্তে দৃশ্যমান নয়। আমাদের শক্তি নদ-নদী, খাল-বিল, সর্বোপরি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
এই প্রেক্ষাপটে কৃষি ঘিরে আমাদের মানসিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়নের পথে খুব বেশি এগোনো যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষিকে আর মন্দের ভালো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম, গণমাধ্যমের উপস্থাপন কিংবা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের বয়ানে কৃষিকে একটি নিরাপত্তামুখী পেশা হিসেবে তুলে ধরতে হবে। যেভাবে বিসিএস, ব্যাংক বা করপোরেট চাকরিকে সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি, সেভাবে কৃষিকেও সম্মানজনক পরিচয়ের জায়গাটুকু আমাদের করে দিতে হবে। 

মো. শাহিন আলম: সাবেক শিক্ষার্থী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
 

আরও পড়ুন

×