স্বাস্থ্য খাতের অবহেলা কাম্য নয়
মো. দ্বীন ইসলাম
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সর্বস্তরের মাণুষকে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের মৌলিক উদ্দেশ্য। উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সরকারের একটি মৌলিক দায়িত্ব, যা কর্মক্ষম জনশক্তি সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কেননা, শ্রমজীবী মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে না পারলে একটি দেশের অর্থনীতি দীর্ঘ মেয়াদে গতিশীল থাকতে পারে না। কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় অক্ষম জন-অনুপাত বেড়ে গেলে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে বরাবরই পরোক্ষ খাতে (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি) সরকারি বিনিয়োগ তলানিতে থাকে। একটি দেশের বাজেটে তার জিডিপির ৪-৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা উচিত, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ রাখে। এটি দেশগুলোর অর্থনৈতিক গতিশীলতায় এ খাতের বিনিয়োগ নিয়েও ইতিবাচক ভূমিকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আমাদের এ বছর স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও তা দেশের মধ্য ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত। যদিও এ সামান্য বাড়াতে স্বাস্থ্য খাতের লক্ষ্য অর্জিত হবে না, তথাপিও এটি সামনের দিনগুলোতে এ খাতে সরকারের উত্তরোত্তর মনোযোগ বাড়ার আভাস দেয়, যা নিঃসন্দেহে দেশের সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি ভালো বিষয়। স্বাস্থ্য খাতের অবমূল্যায়নের ফলে দেশের অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে।
কর্মজীবনে শ্রমজীবী মানুষেরা দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতে পারে না। রোগাক্রান্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মক্ষমতা হারায়। এর ফলে দেশে কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যায়। নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, আমাদের দেশে একজন সাধারণ শ্রমিক সাধারণত ৫০-৫৫ বছর বয়স হলেই কর্মক্ষেত্রে আর সক্রিয় থাকতে পারেন না। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকের অভাব সৃষ্টি হচ্ছে। একজন অভিজ্ঞ শ্রমিকের শ্রমের ফলে অর্থনীতিতে যে আউটপুট তৈরি হতো, সেটি হচ্ছে না। এ অবস্থা যদিও এখন পর্যন্ত ততটা প্রকট নয়, কিন্তু ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গতিশীল ও টেকসই করতে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই।
দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য পরোক্ষ খাতের বিনিয়োগে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুবা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক
অগ্রসরমানতা মুখ থুবড়ে পড়বে।
মো. দ্বীন ইসলাম: শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য