ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর
×

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাব জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বড় মেয়ে নাসিদা শাফিস বিন্তী স্থানীয় নেতাকর্মীর ওপর খবরদারি করে আসছিলেন। উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি হওয়ার সুবাধে ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ, টিআর, কাবিখা, খাল খনন থেকে শুরু করে সরকারি সব বরাদ্দ বণ্টনে একক আধিপত্য চালিয়ে আসছিলেন। এসব নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার মলমগঞ্জ মডেল কলেজে একটি মতবিনিময় সভা ছিল। সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সংসদ সদস্যের মেয়ের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় কর্মী-সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ডাকবাংলোতে নতুন ইউএনও, ওসি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পরামর্শ সভা করার সময় হঠাৎ বিন্তীর কর্মী-সমর্থকরা ইসলামপুর ডাকবাংলোতে থাকা তাঁর ব্যবহৃত এক্স-নোয়া গাড়িটি ভাঙচুর করে। এতে তাঁর ৪০ লাখ টাকা মূল্যের নতুন গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে সেখানে থাকা সংসদ সদস্যের একটি নোয়া গাড়ি ভুলবসত ভাঙচুর করেন তারা। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হলেন, হাসান, আলম, হৃদয়, সিফাত, ফয়সালসহ অনেকেই গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে নাসিদা শাফিস বিন্তীর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন ইউএনওর যোগদান উপলক্ষে ডাকবাংলোতে একটি সভা করছিলেন। এ সময় ডাকবাংলোতে থাকা তাঁর গাড়িটি কে বা কারা ভাঙচুর করে। তিনি বলেন, ঘটনার পরে ওসিকে তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থানায় নিয়ে যেতে বলেন এবং তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাব জানান, তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুনের ভাষ্য, ঘটনাটি শোনার পর বিস্তারিত জানার জন্য তিনি এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু এমপি তাঁর ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের ভাষ্য, সংসদ সদস্য ও দলের সাধারণ সম্পাদকের দুটি গাড়িই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। দুই গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ আসেনি।

আরও পড়ুন

×