১০ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা ও শোকজ
নিয়োগে বিধি লঙ্ঘন ও দায়িত্ব পালনে অবহেলায় বরখাস্ত ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন, বেসরকারি ক্লিনিকে মালিকানা (শেয়ার) থাকা এবং কর্মস্থলে ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০ জন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে কর্মরত।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইতোমধ্যে দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একজনকে ভোলা জেলায় বদলি করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা-২ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়, যা গত বৃহস্পতিবার রাতে সিভিল সার্জন অফিস নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী এই বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের নামে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার কেনা, পরিচালনায় যুক্ত থাকা, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ এবং অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করার অভিযোগ সম্পর্কে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্তদের পত্র পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত বা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার
প্রাথমিক তদন্তে শহরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অপরাধে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁরা হলেন–জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক্স) মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. আজহারুল ইসলাম।
সাময়িক বরখাস্ত
সিটি ক্লিনিকে শেয়ার থাকা এবং সরকারি ডিউটি চলাকালীন সেখানে কর্মরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ায় জেলা হাসপাতালের ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রুমালি খাতুন ও মেডিকেল অফিসার দিলরুবা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিস সময়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে প্র্যাকটিস করার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে দৌড়ে পালানোর ঘটনায় মো. ইনজামাম-উল হককে শাস্তিমূলকভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করার ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেন, স্থানীয় ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতাদের সুপারিশে ওই বদলি করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ। পরিদর্শনকালে ৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসকদের অনিয়ম নিয়ে তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুব আলম জানান, হাসপাতালের মোট আটজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় মামলা হয়েছে। সামসুল আলম রাশেদকে ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা হাতেনাতে ধরার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের এই কঠোর অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- মামলা