ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

আদালত প্রাঙ্গণ থেকে  তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
×

 নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিপণ হিসেবে ৬টি বিকাশ নম্বরে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করেছে অপহরণকারীরা। এই ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সদর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ব্যবসায়ী লিখন তালুকদার।

আসামিরা হলেন– নরসিংদীর হাজীপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুল, তাঁর ভাই কামাল সরকার, বদরপুর গ্রামের কামাল ভূঁইয়া, নরসিংদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু হানিফ সজিব, বিলাসদী এলাকার ইনসান ও শরীফ, শিবপুরের পুটিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক।
ভুক্তভোগী লিখন তালুকদারের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোবিন্দপুরে। ঢাকায় কনসালটেন্সি ফার্মে ব্যবসা করেন তিনি।

জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে চেক সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে আসেন লিখন তালুকদার ও তাঁর বন্ধু শাকিল খান। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাঁকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী সায়মা শাহীন রিয়াকে কল দিয়ে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তাঁর স্ত্রী রিয়া নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে অপহরণ চক্রের প্রধান মাসুদ রানা বাবুলের দেওয়া ০১৭১১-৭০৮১২২ নম্বরে ২০ হাজার, ০১৯৫৯-১৬৩৭৮৪ নম্বরে ২০ হাজার, ০১৩০৮-৩৩৫৩৩৭ নম্বরে ২০ হাজার, ০১৬৭২-৬০১৭০১ নম্বরে ১৮ হাজার, ০১৮৯৭-২২৭২৬৩ নম্বরে ২০ হাজার ও ০১৯৫৪-২৪৯৯২০ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাঁকে ছেড়ে দেয় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ব্যবসায়ী লিখন জানান, মুক্তি পাওয়ার পর নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের পরিচয় সংগ্রহ করে থানায় অভিযোগ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চক্রের প্রধান মাসুদ রানা বাবুল বৃত্তবান লোকদের ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নিজেকে ‘মাদক বিরোধী আন্দোলন’ নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসছেন। একাধিক সূত্রের দাবি, অনুমোদনহীন এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মাসুদ রানা বাবুল মাদক কারবারি চক্রের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আসামি মাসুদ রানা বাবুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×