ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লায় গোমতীর চরে উজানের ঢল ডুবে গেছে মুলা-করলার ক্ষেত 

কুমিল্লায় গোমতীর চরে উজানের ঢল ডুবে গেছে মুলা-করলার ক্ষেত 
×

 কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে গোমতী নদীর পানি বেড়ে চলায় চরাঞ্চলে কৃষকের ক্ষেতের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, নদীর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও এরই মধ্যে চরের প্রায় ছয় হেক্টর ফসলি জমি ডুবে গেছে। আরও পানি বৃদ্ধির শঙ্কায় চরের উঁচু অংশের অপরিপক্ব ফসলও তুলে নিচ্ছেন চাষিরা। 

সরেজমিন গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলায় গোমতী চরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আবাদ করা করলা, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। 

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল কুমিল্লা জেলা। ওই বছরের ২১ আগস্ট ভোরে টানা ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়েছিল। এতে চারটি উপজেলার কয়েকশ গ্রাম প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। 
বুড়িচং উপজেলার ভান্তি গ্রামের কৃষক আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘এবার আশা করেছিলাম বন্যা হবে না। হঠাৎ চরে পানি আসায় কম 
দামে পাইকার এনে পানির নিচ থেকে মুলা তুলে দিয়েছি।’ 
নিমসার বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন। চরের কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফসল কিনে নিমসার বাজারসহ দেশের 
বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারে মুলায় একটু দাগ থাকলে ক্রেতা নিতে চায় না। এখন আবার বন্যা হওয়ার আশঙ্কায় মুলা তুলে নিচ্ছি। বৃষ্টিতে যতটুকু ক্ষতি হইছে, বন্যার পানিতে ফসল ডুবলে তো আরও ক্ষতি হবে।’ 

চরের মুলা তুলে আঁটি বাঁধছিলেন দিনাজপুরের শ্রমিক শফিকুর রহমান।  তিনি বলেন, ‘আমরা ১৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন ১২০০ টাকা মজুরিতে চরে কাজ করি। এই কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতে কাজে আসতে পারি নাই। এলাকার কৃষকরা ফসল তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসছেন। অনেক জমির ফসল এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, তবুও বন্যার আশঙ্কায় মালিকরা ফসল তুলে নিচ্ছেন।’ 
সদর উপজেলায় আমতলী এলাকার কৃষক মো. শাহনেয়াজ  বলেন, ‘গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। চরে কয়েক লাখ টাকার ফসল রেখে রাতে ঘুমাতে পারিনি। আমার  ৪০ শতাংশ জমিতে করলা ও মিষ্টিকুমড়া আছে। পাইকারদের খবর দিয়েছি। তারা এসে তুলে নিয়ে যাবে। আর দুদিন এমন বৃষ্টি হলে ফসল আর তোলা যাবে না। বন্যা হলে তো যা  আছে সব নষ্ট হবে।’ 
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে  গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৫৯ মিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর সর্বোচ্চ বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩ মিটার।’ 
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। আজ পানি কমছে। দুইদিনের মধ্যে যদি পানি নেমে যায়, তাহলে যে ফসলগুলো ডুবে গেছে, তা কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আকতার বলেন, ‘গত কয়েক দিনের চেয়ে শুক্রবার গোমতীর পানি একটু কমছে। তবে আমাদের ব্যাপক পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত আছে।’ 

আরও পড়ুন

×