ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাদীকে চেনেন না আসামি তদন্তে তবু ‘সত্য’ মামলা

বাদীকে চেনেন না আসামি  তদন্তে তবু ‘সত্য’ মামলা
×

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীতে পাঁচ লাখ টাকা প্রতারণার একটি মামলাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মামলার আসামি শিক্ষক দম্পতির দাবি, তারা বাদীকে কখনও চিনতেন না। মামলায় উল্লেখ করা পাঁচ সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি, আরেকজন জানিয়েছেন তিনি মামলার কিছুই জানেন না। এরপরও পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। এর জেরে প্রধান আসামি শিক্ষক গোলাম আওয়াল খান মাসুদকে ১৪ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতি গোলাম আওয়াল খান মাসুদ ও মাছুমা খাতুন সদর উপজেলার মোরঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁদের বাড়ি রাজবাড়ী শহরের নতুনবাজারে।
মামলায় বাদী কুলসুম অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে শামছুল মণ্ডলকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি শিক্ষক দম্পতি পাঁচ লাখ টাকা নেন। নির্ধারিত সময়ে বিদেশে না পাঠিয়ে টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাঁচ সাক্ষীর মধ্যে ডেমনামারা গ্রামের সবির খাঁ, হাবিবুর রহমান ও গোলাম সরোয়ার নামে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। অপর সাক্ষী সাগর বসু জানান, তিনি বাদীকে চেনেন না এবং এ মামলার সাক্ষীও নন। মামলার তদন্ত করেন পাংশা থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গনি। তিনি গত ১১ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দেন। পরে ১১ জুন হাজিরা দিতে গেলে গোলাম আওয়াল খান মাসুদের জামিন নামঞ্জুর হয়। ১৪ দিন কারাভোগের পর ২৫ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান। 
গোলাম আওয়াল খান মাসুদ বলেন, আদালতে কর্মরত এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি প্রথম মামলার কথা জানতে পারেন। বাদীকে কখনও দেখেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তাও তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি নিজে দেখা করতে গেলে দুর্ব্যবহার করা হয়। বিনা দোষে কারাভোগ ও চাকরি হারিয়ে গুরুতর সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাসুদ এলাকায় সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। কাউকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা কখনও শোনা যায়নি। বাদী কুলসুমের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন মামলার তদবির ও সাক্ষী হিসেবে কাজ করেন। এলাকায় তিনি ‘ক্যাসেট’ নামে পরিচিত। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানতে চাইলে কুলসুম বলেন, ‘সে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। আদালতই বিচার করবে।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে সাক্ষীদের বাদীই তাঁর কাছে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের পরিচয় বা অস্তিত্ব যাচাই করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। বাদীর অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত প্রমাণও নেই বলে জানান তিনি। এরপরও কীভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেল–এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যা পেয়েছি, তাই রিপোর্ট দিয়েছি।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, ‘আদালত যদি তাঁকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন, আমরা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেব।’ 

আরও পড়ুন

×