পেটানোর পর হত্যার হুমকি বাড়িছাড়া একটি পরিবার
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
মির্জাপুরের মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের নারীসহ কয়েকজনকে পেটানোর পর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বাসন্তী রানী সরকার, বাসন্তীর স্বামী রাম গোপাল সাহা, চাচাতো ভাই খুশিমোহন মণ্ডল ও ধীরেন মণ্ডল এবং মেয়ে পায়েল সাহা। তারা জানান, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, খুশিমোহনের বাবা নিতাই মণ্ডল এবং ধীরেন সরকারের বাবা উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। ২০১২ সালে তিনি তাঁর জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তাঁর চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি নুপুর চেয়ারম্যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজর দাবি করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। এতে বাধা দিলে তাঁকে, তাঁর স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মারধরের পর থেকে আমরা এলাকা ছেড়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। চেয়ারম্যান এখন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ধীরেন সরকার চেয়ারম্যানের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
আমাদের নিরীহ পেয়ে নুপুর চেয়ারম্যান জোর করে জমি দখলে নিচ্ছেন। আমাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তাঁর ভাষ্য, ওইদিনের পর তাদের সঙ্গে তাঁর আর দেখা হয়নি। স্থানীয় কাঞ্জুনম দাস গংদের সঙ্গে এওয়াজ সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি বলে দাবি করেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ মামুন জানান, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- হুমকি