ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্মার্ট কৃষির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

স্মার্ট কৃষির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
×

মো. বাইজিদ শেখ 

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৬ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

​বাংলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, যেখানে সবুজের সমারোহ আর কৃষকের নোনা ঘাম মিলেমিশে একাকার। ভোরের কুয়াশা চিরে যে মানুষটি কাঁধে লাঙল বা পাওয়ার টিলার নিয়ে মাঠে ছোটেন, তিনি আমাদের অন্নদাতা। যুগ যুগ ধরে প্রকৃতি আর মাটির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই কৃষকদের সামনে আজ এসে দাঁড়িয়েছে এক নতুন যুগের হাতছানি ‘স্মার্ট কৃষি’। ড্রোন দিয়ে সার ছিটানো, সেন্সরের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা মাপা কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের রোগ নির্ণয় শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও এটিই এখন বিশ্বজুড়ে কৃষির ভবিষ্যৎ। আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, রোদ-বৃষ্টিতে পোড়া সেই প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে এই আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন কতটা বাস্তবসম্মত?

​বর্তমানে দেশের অনেক কৃষকের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছেছে সত্য। ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবে তার ব্যবহার কেবল কথা বলা বা বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নানা অ্যাপ বা কল সেন্টার থাকলেও মাঠপর্যায়ের একজন ষাটোর্ধ্ব কৃষকের পক্ষে সেই প্রযুক্তি সহজে আত্মস্থ করা কঠিন। ফসল যখন পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়, তখন তিনি অ্যাপে ছবি তুলে পাঠানোর চেয়ে স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতার ওপরই বেশি ভরসা করেন। 

​কৃষকের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তাদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি। প্রযুক্তির যুগে কৃষকের তথ্য ও অধিকার সংরক্ষণে আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।
​প্রথমত, ‘কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। স্মার্ট কৃষির একটি বড় সুবিধা হলো সরাসরি বাজারসংযোগ। কৃষকরা যদি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি জানতে পারেন ঢাকার বাজারে আজ টমেটো বা বেগুনের দাম কত, তবে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেট তাদের ঠকাতে পারবে না। বাস্তবতা হলো, তথ্যের অভাবে কৃষকরা আজও মাঠে ফসল ফেলে কাঁদেন।  ​দ্বিতীয়ত, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কৃষকের অধিকার রয়েছে সরকারি প্রণোদনা, সারের মজুত এবং আবহাওয়ার আগাম বার্তা জানার। স্মার্ট কৃষিব্যবস্থা কৃষকের এই আইনি অধিকারকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে পারে। যখন কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা এগ্রো-টেক কোম্পানি কৃষকের জমি, ফসলের ধরন বা উৎপাদনের ডেটা সংগ্রহ করে, তখন কৃষকের ‘ডেটা প্রাইভেসি’ বা তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো আমাদের নেই। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের নামে প্রান্তিক কৃষকদের চুক্তিবদ্ধ কৃষিতে বাধ্য করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না করতে পারে, সেদিকে আইনি নজরদারি জরুরি। ​স্মার্ট কৃষি কোনো জাদুর কাঠি নয় যে রাতারাতি সব বদলে যাবে। এর জন্য প্রয়োজন কৃষকের প্রতি রাষ্ট্রের গভীর মমত্ববোধ। প্রযুক্তি যেন কৃষকের ঘাড়ে নতুন কোনো বোঝা বা ভয়ের কারণ না হয়, বরং তা যেন হয় তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। 

মো. বাইজিদ শেখ: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×