নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে করণীয়
তাকবির জাহান
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর খবর আমাদের সামনে আসে। অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা বা ওভারটেকের মতো কারণ থাকে। কিন্তু মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা ভারী যানবাহনও যে একটি বড় ঝুঁকি, সেটি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। একটি ভুল পার্কিং কখনও কখনও একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পার্কিং এবং বিশ্রামস্থলের অভাবও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। অনেক মহাসড়কে চালকদের ঘুমানো, বিশ্রাম নেওয়া, টয়লেট ব্যবহার বা খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে রাখেন। অন্যদিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় প্রবেশের খরচ এড়ানো বা সুবিধার অভাব, পর্যাপ্ত ট্রাক টার্মিনালের সংকট এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাও এ প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালকরা মনে করেন, রাস্তার পাশে গাড়ি রাখলে খরচ নেই এবং তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বাধা দেবে না। এই সামান্য সুবিধার মূল্য
দিতে হয় অনেক সময় অন্য কোনো নিরপরাধ সড়ক ব্যবহারকারীকে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র মোটরযান পার্ক করা, থামানো কিংবা যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করানো নিষিদ্ধ। একইভাবে যাত্রীরাও নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি থামানোর জন্য চালককে অনুরোধ করতে পারেন না। এই আইন অমান্য করলে জরিমানা ও চালকের লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের বিধান রয়েছে।
শুধু জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিত ও নিরাপদ ট্রাক পার্কিং জোন এবং বিশ্রামকেন্দ্র তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকদেরও মনে রাখতে হবে– কয়েক ঘণ্টার বিশ্রামের জন্য মহাসড়কের পাশে একটি ট্রাক দাঁড় করানো অন্য কারও জীবনের জন্য মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠতে পারে। যাত্রীদেরও নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি থামানোর জন্য চালককে চাপ দেওয়া উচিত নয়।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; চালক, গাড়ির মালিক, যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনার আগেই অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে। একটি ট্রাক হয়তো চালকের কাছে সাময়িক বিশ্রামের স্থান, কিন্তু মহাসড়কের ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই ট্রাকটি অন্য কারও জন্য হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুফাঁদ। নিরাপদ সড়কের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তাকবির জাহান: শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
- বিষয় :
- নিরাপদ সড়ক চাই