ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি আটকে আছে কেন

শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি আটকে আছে কেন
×

সচিব তালুকদার

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৭ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে জারি করা দুটি পৃথক স্মারকের মাধ্যমে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেড, বিশেষ করে চতুর্থ গ্রেড প্রাপ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সভা আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ জুলাই সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসব বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অন্তত প্রশাসনিকভাবে পদোন্নতির বিষয়টি একটি দৃশ্যমান প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করেছিল। এখানেই প্রশ্নটি আরও গভীর হয়। যদি বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা করার মতো পর্যায়ে বিষয়টি এগিয়ে থাকে, তাহলে এর আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাষকদের পদোন্নতি আটকে ছিল কেন? এখনও যদি তা চূড়ান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে বাধাটি কোথায়?
একজন শিক্ষক যখন বছরের পর বছর একই পদে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁর পদোন্নতি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয় থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে তাঁর পেশাগত স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, কর্মপ্রেরণা এবং রাষ্ট্রের কাছে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন। অথচ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পদোন্নতির প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কখনও শূন্য পদ, কখনও পদসংকট, কখনও প্রশাসনিক জটিলতা, কখনও আর্থিক সংশ্লেষের প্রশ্ন সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর মেলে না। যাদের পদোন্নতি প্রাপ্য, তাদের পদোন্নতি আটকে থাকার প্রকৃত কারণটি কী?

গত কয়েক বছরের ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতির পরিসংখ্যান সেই বৈষম্যের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২০২২ সালে ১১৭, ২০২৩ সালে ২৭০, ২০২৪ সালে ২০১ জন এবং ২০২৬ সালে ২৬৪ জন ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। অর্থাৎ প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বিদ্যমান। অন্যদিকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। কেবল ২০২৫ সালে এক হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। একটি ক্যাডারে যেখানে বছরের পর বছর পদোন্নতির ধারাবাহিকতা রয়েছে, সেখানে আরেকটি ক্যাডারে কয়েক বছর পদোন্নতি বন্ধ থাকার পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে হচ্ছে। এই চিত্র কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্যই নির্দেশ করে না, এটি পদোন্নতি ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়। শিক্ষকের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের পূর্বশর্ত।

সচিব তালুকদার: সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা (৩৬তম বিসিএস)
 

আরও পড়ুন

×