প্রাথমিক শিক্ষায় শিখন ঘাটতির প্রভাব
মাহজাবিন আলমগীর
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৬ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইগুলোর ‘অনুশীলন অংশ’ শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো চর্চা করা হয় না, ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। গত ২৩ জুলাই সমকালে প্রকাশিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য ফুটে উঠেছে। যেখানে দেশের ২০টি জেলার অন্তত ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করেন যে এই শিখন ঘাটতি নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে পদার্পণ করছে।
শিখন ঘাটতি বা লার্নিং গ্যাপ বলতে আমরা বুঝি একজন শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট বয়সে বা ক্লাসে যে পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করার কথা, তা থেকে তার অর্জন অনেক কম হয়। শিখন ঘাটতি তখনই ব্যাপকভাবে হয় যখন পাঠদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে বোধগম্য হয় না। অথবা শিক্ষার্থীদের যথাযথ মনোযোগের অভাব থাকে। এই শিখন ঘাটতির ফলে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো আবশ্যক বিষয়গুলোতে ব্যাপক দুর্বলতা তৈরি হয় এবং পরবর্তী ক্লাসে পাঠ্যক্রম বুঝতে না পেরে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ায় মনোযোগ অনেকটা হারিয়ে ফেলে। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা হলো সব শিক্ষার মূল ভিত্তি বা বুনিয়াদ। বর্ণ পরিচয়, বাক্য গঠন থেকে শুরু করে গণিতের যোগ-বিয়োগ বা গুণ-ভাগের ধারণা এখানেই প্রথমে তৈরি হয়। কিন্তু প্রাথমিকের পাঁচ বছরে যদি সেই শিক্ষায় কোনো ঘাটতি থেকে যায় তবে এর ফল মোটেই সুখকর হবে না ছাত্রছাত্রীর জন্য।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বীজ হতে অঙ্কুরিত চারাগাছের মতো। তাকে আলো, বাতাস দিয়ে বৃক্ষে পরিণত করা শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব। তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে কেবল যন্ত্রের মতো বাঁধা বুলি আওড়ালেই চলবে না, বরং ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠ প্রক্রিয়া কতটা বোধগম্য হলো সেই দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত এই তিনটি বিষয়ে ব্যাপক শিখন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যেমন কারও যুক্তবর্ণ জ্ঞান ঠিক থাকছে না, কারও উচ্চারণে সমস্যা, কেউ রিডিংয়ে দুর্বল। উল্লেখ্য, একটি শ্রেণিতে সব শিক্ষার্থীর সমান দক্ষতা থাকে না। কেউ দ্রুত শেখে, আবার কেউবা ধীরে। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে শিক্ষককে উপলব্ধি করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ্যক্রম নতুন করে ঢেলে সাজানো দরকার; যার লক্ষ্য থাকবে মুখস্থবিদ্যার চাপ কমিয়ে শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো।
মাহজাবিন আলমগীর: শিক্ষক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- বিষয় :
- শিক্ষা