ভালো লাগার ছবি
নরসিংদী জেলার মাধবদী থেকে তোলা
মৌসুমি সিরাজ স্মৃতি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৫ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৭:২৬
বাড়ি ফেনী। ছবি তোলার জন্য দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াই। দেশে এবং দেশের বাইরে যৌথ এক্সিবিশন করেছি। বাংলাদেশের বাচ্চাদের প্রাণী ও পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে চাই। নিচে আমার তোলা কিছু ছবি ও এর পেছনের গল্প তুলে ধরা হলো।
এক.
নরসিংদীর মাধবদীর একটি গ্রামে শীতকালে লেপের জন্য সাদা কাপড়ে লাল রং দিয়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। তখন খেলার মাঠগুলো ভাড়া নেওয়া হয়। বাচ্চারা মাঠে তখন খেলতে পারে না। তাই কাপড়ের ওপরেই খেলছে। তবে কিছুক্ষণ পর তাদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে তোলা ছবিটি সিয়েনা ফাইনালিস্ট হয়েছিল।

দুই.
সাতছড়ি জঙ্গলের ভেতরে একটি পুকুর আছে, সেখানে অনেক ধরনের পাখি আসে পানি খেতে। সেদিন সারাদিন বসেছিলাম। কোনো কিছু আসছিল না। সকাল থেকে বসতে বসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সাধারণত ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফিতে ধৈর্য ধরে বসে থাকতে হয়। একটা সাপ পানি খেতে এলো। সাপটি পানি খেয়ে একটা গাছে চড়ে বসল। হঠাৎ একটা বেজি এলো পানি খেতে আর বেজি সাপকে দেখেই আক্রমণ করল। সাপটিও পাল্টা আক্রমণ করল কিন্তু একসময় সাপটা পরাস্ত হলো। বেজি সাপটিকে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। ছবিটি একাধিক গোল্ড মেডেল পেয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজানে পুরস্কৃত হয়েছে। ছবিটি ২০২৩ সালের ১১ মার্চ তোলা।

তিন.
যেদিন বন্যপ্রাণীর ছবি তুলি, সেদিন থেকে ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে বুনোহাতির ছবি তুলব। কিন্তু হচ্ছিল না। কাপ্তাই গেলাম একটা দুর্লভ প্রজাতির মালায়ান নাইট হরিণ পাখির ছবি তুলতে। পাখিটির ছবি তুলে ফিরে আসার সময় গাইড আমিন জানাল, হাতি দেখা গেছে। আমরা ফেরত এলাম আবার জঙ্গলে। গিয়ে দেখি, এক পাল হাতি। আমার সঙ্গে আব্দু ভাই আর সোফিয়া আপা ছিল। তিনজনই ছবি তুললাম; কিন্তু তারা দুজন একটু ভয় পেয়ে উঠে গেল। আমি গাইড আমিনসহ রয়ে গেলাম। কারণ আমার অনেকদিনের ইচ্ছা হাতির ভালো ছবি তুলব। ইচ্ছামতো ছবি তুলতে লাগলাম। একপর্যায়ে হাতি দাবড়ানি দিল। পাহাড় ডিঙিয়ে দৌড়ে রাস্তায় উঠে এলাম। তবে পায়ে ব্যথা পেলাম। তবুও অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম।

চার.
কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিনড্রাইভ থেকে ড্রোনে একটি ছবি তুলেছিলাম। সমুদ্রের তীরে ছিল সাম্পান। বাংলাদেশেই একমাত্র এ ধরনের সাম্পান নৌকা দেখা যায়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের প্রতীক।

পাঁচ.
সাধারণত গ্রীষ্মকালে ছোট পানচিল নামের একটি পাখি বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর চরে পরিযায়ী হয়ে আসে। ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে আবার চলে যায়। পদ্মার এমনই এক চরে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে এদের ছবি তুলতে যাই। বালুতে কেমোফ্লেজ করে শুয়ে থাকতে হয় সারাদিন। মাথা তুললে পাখিটি নামে না; তাই মাথাও কেমোফ্লেজ করি। ছেলে পাখিটি নদী থেকে মাছ এনে বাচ্চা ও মাকে খাওয়ায়। বাচ্চা ফোটার কিছুক্ষণ পরই হাঁটা শুরু করে– পারলে দৌড় দেয়। মা ও বাবা মিলে তাদের দ্রুত বড় করে। ছবিটি ২০২২ সালে তোলা। এটা ভারতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি।
