নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেরেছি
শিউলি শবনম
শিউলি শবনম
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৫ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৬:৪৪
২০২১ সালে বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব আয়োজিত ট্যুর ডি সিএইচটিতে অংশ নিয়েছি। প্রতিযোগিতামূলক কোনো ইভেন্টে এটিই ছিল আমার প্রথম অংশগ্রহণ। দেশে ট্যুর কিংবা রেস জনপ্রিয় হলেও তখনও প্রতিযোগিতামূলক মাউন্টেন সাইক্লিং সেভাবে জনপ্রিয় না।
এর আগে আমি নিজেও কখনও এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিইনি। তার চেয়েও মজার ব্যাপার হলো, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি পথে সাইক্লিংটা আমাকে টানছিল খুব। পাহাড়ি পথ, চ্যালেঞ্জ আর সৌন্দর্য সব মিলিয়ে খুবই এক্সাইটেড ছিলাম। সেবার আমিসহ অন্তত ছয়জন নারী সাইক্লিস্ট ছিলাম। প্রতিযোগিতার শুরুর দিনে বেশ ভালোই সাইকেল চালিয়েছি। তবে দ্বিতীয় দিনের শেষে অনেকেই বাদ পড়ে যায়।
এর কারণ মূলত শারীরিক শক্তি এবং পাহাড়ি উঁচু-নিচু ঢালের কঠিন পথে দুর্ঘটনা। শেষ দিন পর্যন্ত আমি আর নিশাত নামে একজন টিকে ছিলাম। তবে নীলগিরি ক্রস করে জীবননগর ঢালে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ি। সাইকেলের ব্রেক ফেল হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলাম। কয়েক মিটার দূরে পড়লেই সোজা পাহাড়ের পাদদেশে চলে যেতাম। পরে আয়োজকদের রেসকিউ টিম উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। ঝুঁকি সত্ত্বেও জীবনের সেরা উপলব্ধি নিয়ে ফিরেছি।
৩০০ কিলোমিটারের রেসে ২৪০ কিলোমিটারের মতো পথ অতিক্রম করেছিলাম। মেয়েদের মধ্যে শুধু নিশাত ফিনিশিং লাইন টাচ করতে পেরেছে। হয়তো জীবননগরে না পড়ে গেলে আমিও যেতে পারতাম। সফল না হলেও নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছি। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেরেছি।
লেখক: ট্যুর ডি সিএইচটিতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি সাইক্লিস্ট
- বিষয় :
- সাইকেল
- পাহাড়
- মাউন্টেন বাইকিং
