ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাউন্টেন বাইকিং

পাহাড়ে রোমাঞ্চের খোঁজে

পাহাড়ে রোমাঞ্চের খোঁজে
×

.

আশরাফুল ইসলাম আকাশ

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৮ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৬:৩৬

মাউন্টেন সাইক্লিং বা মাউন্টেন বাইকিং (এমটিবি) হলো পাহাড়ি পথ বা দুর্গম ট্রেইলে সাইকেল চালানোর এক রোমাঞ্চকর খেলা। এই খেলা একদিকে যেমন দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়; অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ
---------------------------------------------------------------

সাইক্লিং নিয়ে অনেক দেশে আগ্রহের শেষ নেই। আছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক কিংবা সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের মতো বড় আসরে প্রতিযোগিতার সুযোগ। তবে আমাদের দেশে দুই চাকার সাইকেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও প্রতিযোগিতা নিয়ে যেমন মাথাব্যথা নেই, তেমনি এটিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টাও খুব বেশি দেখা যায় না। দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকটাই অজনপ্রিয়; অথচ বিশ্বের অনেক দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি খেলা মাউন্টেন সাইক্লিং বা মাউন্টেন বাইকিং– পাহাড়ের পাদদেশে সাইকেল প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি-বিদেশি সাইক্লিস্টদের নিয়ে আসর বসাতে পারলেই দেশের পর্যটনে বইবে সুদিনের হাওয়া। দুই চাকার সাইকেলে বাংলাদেশের রূপ-লাবণ্যের রূপকথার গল্প পৌঁছাবে বিশ্বের আনাচে-কানাচে।

বিশ্বের নানা দেশে এখন মাউন্টেন বাইকিং জনপ্রিয় হচ্ছে। নিয়মিত প্রতিযোগিতাও হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা চাইলেও নানা সংকট আর বাধায় সেই পথে সফল হতে পারছেন না। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তিনবার মাউন্টেন সাইক্লিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ট্যুর ডি সিএইচটি নামে এই প্রতিযোগিতা সাজেক থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান হয়ে থানচিতে শেষ হয়। এ জন্য প্রতিযোগীদের পাড়ি দিতে হয় রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ৩০০ কিলোমিটার পথ। যেখানে অংশ নেন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি দেশের নানা অঞ্চলের প্রতিযোগীরা। 

বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের পরিচালক খন্দকার শাহিনুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত তিনবার তারা এই আয়োজন করেছেন। প্রতিটি আয়োজনেই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। মূলত পাহাড়ের সৌন্দর্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও মাউন্টেন সাইক্লিং নিয়ে নতুন ধারা তৈরি করতেই এমন আয়োজন করেছিলেন। তাতে বেশ সাড়াও পড়েছিল তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের প্রাইজমানির জন্য। কয়েক বছর ধরে আয়োজনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের নভেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে আবার এই আয়োজন করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ট্যুর ডি সিএইচটি ইভেন্টে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ইভেন্টের প্রথম দিন ১৩০, দ্বিতীয় দিন ৯০ এবং শেষ দিন ৬০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে থানছি পৌঁছায় প্রতিযোগীরা। এ জন্য সাজেক, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও থানচির বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প বসানো হয়।’

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। সুউচ্চ এই পর্বতের বেসক্যাম্পে পৌঁছাতে মৃত্যুর সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন তাম্মাত বিল খয়ের। হেঁটে নয়; বরং দুই চাকার সাইকেলে ভর দিয়ে পদচিহ্ন এঁকেছেন এভারেস্ট বেসক্যাম্পে। হিমালয়কন্যার মুগ্ধতায় সাইকেল চালিয়ে একে একে আটটি পর্বত পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ-বিদেশের নানা সৌন্দর্য দেখি। শুধু আমিই না, অনেক পর্যটকই কখনও কখনও সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ঘুরে দেখেন নানা দেশ। এখানে আমার কিছুটা আক্ষেপ আছে। আমাদের দেশেই কত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। এসব জায়গা পর্যটন নগরী হিসেবে খুবই দারুণ হবে। অথচ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সাইক্লিং নিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেও দেশের পর্যটনের বিস্তৃতি ঘটে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা জনপ্রিয় হচ্ছে। আমাদের উচিত এসবে মনোযোগ দেওয়া।’
আক্ষেপ থাকলেও তাম্মাত বুনছেন বড় এক স্বপ্ন। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের নানা প্রান্তে ছুটছেন। বললেন, ‘এই সময়টার পরিবর্তন হবে। আমাদের মতো কারও হাত ধরেই সেটি শুরু হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে একজন করে সাইক্লিস্ট তৈরি হবে। সেই কাজই করে যাচ্ছি। এখন দেশের পাহাড়ি পথ নির্বাচন করে সাইক্লিস্টদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে যেমন অ্যাথলেট তৈরি হবে, তেমনি পর্যটনশিল্পের প্রচার হবে।’

আরও পড়ুন

×