সালতামামি-২০২৫
কাঠের চশমায় নতুন ক্রেজ
চশমা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:২০ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাসেল জায়েদী ও খসরু সুমন। শৈশব, কৈশোর থেকে যৌবন–দুই বন্ধুর দীর্ঘ পথচলা। সম্পর্কের গভীরতা থেকে পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন উদ্যোক্তা হবেন। সুযোগটা আসে ২০২১ সালে। কভিড পরিস্থিতির মধ্যেই দুই বন্ধুর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে তাদের প্রতিষ্ঠান ‘রোদচশমা’। শুরুটা প্লাস্টিকের চশমা দিয়ে। এখন তারা তৈরি করছেন আকর্ষণীয় নকশার কাঠের ফ্রেমের চশমা, যা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
প্লাস্টিকের চশমা ব্যবসায় সাড়া পেলেও আত্মতুষ্টি আসছিল না দুই উদ্যোক্তা বন্ধুর। ভাবলেন তারা স্রেফ একটি ‘চাইনিজ পণ্য’ বিক্রি করছেন। অন্যের ব্র্যান্ডকে প্রোমোট করছেন। বেশকিছু দিন সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেরাই চশমা তৈরি করবেন। সেখান থেকেই হাতে তৈরি কাঠের চশমার চিন্তা বেরিয়ে আসে।
শুরুতে খোলা বাজার থেকে চেরাই কাঠ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো যায় কারিগরদের হাতে। সেখানে নকশা এঁকে মেশিনের সাহায্যে আকৃতি দেওয়া হয়। ঘুণ কিংবা বিভিন্ন ধরনের ড্যামেজ এড়াতে লম্বা সময় কাঠগুলো গরম পানিতে সেদ্ধ করে ওভেনে পাঠাতে হয়। তারপর কাঠের তৈরি বিশেষ একটি ফর্মাতে আটকে দেয় কারিগররা। ফ্রেমটি বাঁকানো হয়ে গেলে তা বের করে সিরিশ কাগজের সাহায্যে স্মুথনেস দিতে হয়। সব শেষ প্রক্রিয়া হিসেবে পলিকার্বনেট ইউএভি পাওয়ার লেন্স কিংবা রঙিন গ্লাস বসানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় ১৮ থেকে ২২ দিন সময় লাগে।
রোদচশমার পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বার্মাটিক কাঠ। শুরুতে সেগুন, মেহগনি, নিমসহ বিভিন্ন কাঠ দিয়ে চেষ্টাও করেন তারা। তবে আউটলুকের কারণে তা মনে ধরেনি উদ্যোক্তাদের। মূলত বার্মাটিক কাঠের যে টেক্সচার লুক, এটি অন্য কাঠে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণেই এ কাঠের ব্যবহার। উদ্যোক্তার দাবি, কাঠ ও চশমা তৈরির প্রক্রিয়ার কারণে ঘুণে ধরা কিংবা ড্যামেজ হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিছুটা নষ্ট হলে তা রিপেয়ার করা গেলে অন্তত ২০ বছর ব্যবহার করা যাবে।
রোদচশমার দক্ষিণ বাড্ডার আউটলেটে এখন ২১ মডেলের চশমা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে তাদের নিজস্ব নকশার ছয়টি চশমা পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের দেশীয় ভাইব ছড়িয়ে দিতে ধানশালিক, বসন্ত বাউরি, পানকৌড়ি, রাজহংস নামের চশমা বিক্রি করছেন। এছাড়া চাপ সামলাতে অন্তত ১৫ জন যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে; যারা এখানে বসেই নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন দেখছেন।
প্লাস্টিকপণ্যের সঙ্গে কাঠের ফ্রেমের চশমার বাজার বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্বাস্থ্যগত দিকটা অনেকেই দেখছেন না। রাসেল জায়েদী বলেন, ‘অল্প সময়ে যেভাবে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা অভিভূত। ক্রেতাকে সর্বোচ্চমানের পণ্য নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করতে চাই। এর মধ্য দিয়েই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে।’
- বিষয় :
- চশমা
- কাঠের চশমা
