ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
×

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৭ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৫

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এন‌সি‌পি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক এই উপদেষ্টাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মোট ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে।

বুধবার কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদস্থ দুই কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ সম্প্রতি জমা পড়ে দুদকে। দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি অভিযোগটি যাচাই করে। পরে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে পেশ করে। কমিশন এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে প্রধান করে চার সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

দুদক আইন অনুযায়ী, এই টিম অনুসন্ধান সম্পন্ন করার জন্য ৪৫ দিন সময় পাবে। এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ না হলে টিমের পক্ষ থেকে কমিশনে আবেদন করে আরও ৩০ দিন সময় বাড়িয়ে নিতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৭৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করার বিধান রয়েছে।

গত জুনে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কিছুর জন্য ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের তিন মাস পর নতুন কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারে সময়ের আলোচিত-সমালোচিত উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিজ এলাকা মুরাদনগরে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দ, সকালে ঘুম থেকে উঠে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের নীলা মার্কেটে হাসের মাংস খাওয়াসহ আরও কিছু বিষয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ওই সময় তাঁর মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করেছেন। অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা ও পদোন্নতি দেওয়ার পর তাদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন করে সর্বমোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা সিন্ডিকেট করে যুব উন্নয়নের সব ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির মহোৎসব চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন–যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মো. মামুন, মো. জাহিদ, মো. আমির (ঢাকা), মো. আনিচ, মো. জাহিদ, মো. ইব্রাহিম (বগুড়া), মো. জুলহাস (বরিশাল), মো. নাকিমউদ্দিন, মো. আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই-ঢাকা) ও আলী হোসেন (নরসিংদী)।

একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম, সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

আরও পড়ুন

×