বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগে মিথ্যা তথ্য: পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২৭
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবন বৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার কমিশন চার্জশিটটির অনুমোদন দিয়েছে। শিগগির এটি আদালতে পেশ করা হবে।
দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান আজ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে দাখিলকৃত সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনারারি ওয়েলফেয়ার স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করার মিথ্যা তথ্য ও যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন। এতে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুন্নকরণ ও অপরাধমূলক অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ মার্চ দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্ত শেষে দুদক উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করলে কমিশন তা যাচাই করে চার্জশিটের অনুমোদন দেয়।
চার্জশিটে বলা হয়, আসামি সায়মা ওয়াজেদ সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন তথা এজেন্টরূপে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিকট সূচনা ফাউন্ডেশনের বার্ষিক রিপোর্ট এবং পরীক্ষিত হিসাব দাখিল করার সম্মতি জ্ঞাপনপূর্বক নিবন্ধন লাভ করেছেন।
সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন পদে দায়িত্ব পালনকালে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করার জন্য দাখিলকৃত সিভিতে প্রতারণামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে অনারারি ওয়েলফেয়ার স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করার মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য প্রদানপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এটি করে তিনি রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে অপরাধমূলক অসদাচরণ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোনো নথি না খুলে এবং তথ্য যাচাই-বাছাই করার অবকাশ না দিয়ে চাপ প্রয়োগ করেছেন।
জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কার্যালয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, জেনেভা, সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে ডব্লিউএইচওর দপ্তর জেনেভাতে দাখিল করান। তৎপ্রেক্ষিতে ওই তথ্য ব্যবহার করে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। তার এ ধরনের কার্যকলাপ দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা লঙ্ঘন করেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের এই ধারায় তার বিরুদ্ধে কমিশন চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন প্রদান করেছে।
দুদক আরও জানায়, পুতুলের আঞ্চলিক পরিচালক প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে প্রদত্ত তথ্যাদি যথাযথ ছিল না। মনোনয়নকালে তিনি কানাডার পাসপোর্টধারী তথা কানাডার নাগরিক ছিলেন। ডব্লিউএইচওর ৭৬তম সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লিতে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে শতাধিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়। এ ক্ষেত্রে পুতুল নিজের পারিবারিক প্রভাব এবং তার নিকটাত্মীয়দের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল অর্থ ক্ষতিসাধন করেছেন।
দুদক কর্তৃক প্রাপ্ত ভিন্ন একটি অভিযোগের উপর পরিচালিত অনুসন্ধানকালে এ মর্মে তথ্য উদঘাটিত হয়েছে যে, পুতুল দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এবং তার পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহারের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্পের কূটনৈতিক জোনে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। সেকারণে তার ও অন্যদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুদক কর্তৃক একটি দুর্নীতির মামলা রুজু করা হয়েছে।
এছাড়াও, পুতুল ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক উপঢৌকন আদায় ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় অটিস্টিক সেলকে ব্যবহার করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে নিজে লাভবান হয়েছেন মর্মে প্রাপ্ত একটি অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে ওই ফাউন্ডেশনের নামে প্রাপ্য অর্থ করমুক্ত করিয়ে নেন। যাতে সরকারের বিপুল অর্থের ক্ষতিসাধন হয়েছে।
- বিষয় :
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- সায়মা ওয়াজেদ