ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশুর জুতা কিনতে যা খেয়াল রাখা জরুরি 

শিশুর জুতা কিনতে যা খেয়াল রাখা জরুরি 
×

হালকা ওজনের জুতা শিশুদের জন্য আরামদায়ক হয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৪:৫৯

সন্তানের প্রথম জুতা মানেই সারাজীবনের স্মৃতি। সব মা-বাবাই সন্তানের বড় হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে আবার বেড়ে উঠেন। জুতা কেনার সময় অনেকেই তাই স্মৃতি কাতর হয়ে পড়েন। মনে পড়ে যায় বাবার সাথে নিজের জুতা কেনার স্মৃতি। একজন অভিভাবকের কাছে সন্তানের জুতা কেনা কখনওই শুধু একটি দৈনন্দিন কেনাকাটার বিষয় নয়। প্রথম স্কুলে যাওয়ার আগে কালো পালিশ করা জুতা, কিংবা ঈদের সকালে নতুন স্যান্ডেল; এসব মুহূর্তের সাথে জড়িয়ে থাকে আনন্দ আর দায়িত্ববোধ। সন্তানের বেড়ে ওঠার পথে এগুলো ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শিশুদের পা দ্রুত বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে ভুল জুতা ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে হাঁটার ভঙ্গি, পায়ের গঠন কিংবা শরীরের ভারসাম্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, অভিভাবকেরা জুতা বাছাইয়ের সময় শুধু রং বা নকশা নয়, বরং আরাম, সঠিক মাপ ও ব্যবহারিক দিকগুলোর ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের মত আর্দ্র আবহাওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। ঘাম, ধুলাবালি ও নিয়মিত ব্যবহারের চাপ জুতার মানের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

স্কুলের জুতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের প্রত্যাশা হয় বাস্তবধর্মী। জুতাটি হতে হবে টেকসই, যাতে মাঠের খেলাধুলা, ব্যস্ত রাস্তায় যাতায়াত কিংবা শ্রেণিকক্ষে কাটানো দীর্ঘ সময় স্বস্তিতে পার করা যায়। সহজে পরিষ্কার বা পালিশ করা যায় কি না, সেটিও একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। 

অন্যদিকে, নিয়মিত ব্যবহারের স্যান্ডেল বা ঈদের জুতায় সুরক্ষাই হয়ে ওঠে মুখ্য বিষয়। বিশেষ করে, কেবল হাঁটা শুরু করেছে এমন চঞ্চল শিশুদের জন্য জুতায় ‘নন-স্লিপ সোল’ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা স্বভাবতই দৌড়ায়, লাফায় ও খেলায় মেতে থাকে। তাই, জুতা হওয়া উচিত তাদের স্বাভাবিক চলাচলের সাথে মানানসই। হালকা ওজনের জুতা শিশুদের ক্লান্তি কমায় এবং দীর্ঘ সময় পরলেও আরাম বজায় রাখে। 

অনেক অভিভাবক জুতা কেনার সময় ভেতরে সামান্য জায়গা; প্রায় আধা ইঞ্চি খালি রাখেন, যাতে পা বাড়লেও জুতাটি অল্প সময়ের মধ্যে ফেলে দিতে না হয়। তবে, সেই জায়গা যেন অতিরিক্ত ঢিলা না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। জুতা কেনার ক্ষেত্রে আরও আসে দামের প্রসঙ্গ। অধিকাংশ বাবা-মা এমন জুতা চান, যার দাম হয়তো কিছুটা বেশি, কিন্তু গুণগত মানে টিকে থাকবে সন্তানের পা জুতার চেয়ে বড় হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। 

এই ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই কিছু ব্র্যান্ড ধীরে ধীরে অভিভাবকদের জীবনে বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, সন্তানের বেড়ে ওঠার গল্পের পাশে বাটার মতো ব্র্যান্ডের নামগুলো আজ প্রতিটি ঘরে সুপরিচিত। শিশুর বাড়তে থাকা পায়ের গঠন ও আরামের প্রয়োজন বোঝার মধ্য দিয়েই এমন ব্র্যান্ডগুলো অভিভাবকদের আস্থার অংশ হয়ে উঠেছে। দেখা যায়, আজ যে বাবা তার সন্তানের জন্য প্রথম স্কুলের জুতা নিতে এসেছেন তার বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড থেকে, তার বাবা-মাও ২৫ বা ৩০ বছর আগে এভাবেই একই জায়গা থেকে তার স্কুলের প্রথম জুতা কিনে দিয়েছিলেন।  

একটি শিশুর জুতা শুধু পায়ের আবরণ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মায়ের যত্ন, বাবার দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের স্বস্তির সঙ্গে এগিয়ে চলার স্বাধীনতা। ছোট পায়ের জন্য নেওয়া বড় চিন্তাগুলোই একদিন হয়ে ওঠে মধুর স্মৃতি।

আরও পড়ুন

×