ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নিম-করলা-জামের রস নিয়ে যা জানা জরুরি

নিম-করলা-জামের রস নিয়ে যা জানা জরুরি
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১৯ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:২৫

নিম, করলা ও জাম—তিনটিই আমাদের পরিচিত ভেষজ ও খাবার। দীর্ঘদিন ধরে এসব উপাদান ঘরোয়া ও প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিতে ব্যবহার হয়ে আসছে। এবার তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি রস নিয়েও মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকে শরীর সুস্থ রাখা, হজমের সমস্যা কমানো কিংবা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভেষজ উপাদান যোগ করার জন্য এই পানীয় গ্রহণ করছেন।

তবে কোনো ভেষজ উপাদান প্রাকৃতিক হলেই তা সবার জন্য নিরাপদ, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিম, করলা ও জামের আলাদা আলাদা কিছু উপকারী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিন্তু তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি রস নিয়মিত পান করলে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উপকার পাওয়া যায়, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত শক্ত প্রমাণ নেই।

তিন উপাদানের আলাদা গুণ

করলায় রয়েছে চ্যারানটিন, ভিসিন ও পলিপেপটাইড-পি-এর মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান। এ ছাড়া করলায় থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ও হজম প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। জামে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ। ফল হিসেবে জাম খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর একটি উপাদান। এর বীজ নিয়েও ভেষজ ব্যবহারে নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে। অন্যদিকে নিম পাতায় রয়েছে নিমবিন, নিমবিডিন ও অ্যাজাডিরাকটিনের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ কমানোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তিনটি উপাদানের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে নিম-করলা-জামের মিশ্রণ নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মিশ্রণটি কোনো নির্দিষ্ট রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রতিরোধের উপায়।

শরীরের জন্য কী ধরনের উপকার হতে পারে

নিম, করলা ও জামে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অণুর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। করলা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। জামে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। নিমের কিছু উপাদানের প্রদাহ কমানোর বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এ ছাড়া এসব উপাদানে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি ও উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য উপকারকে নিশ্চিত চিকিৎসাগত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাত দিনে বড় পরিবর্তনের দাবি কতটা ঠিক

নিম-করলা-জামের রস পান করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে শরীরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। কিন্তু এ ধরনের দাবির পক্ষে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ভেষজ উপাদানের প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কতটা পরিমাণে নেওয়া হচ্ছে, কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, কত দিন ধরে খাওয়া হচ্ছে এবং ব্যক্তির সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা কেমন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েক দিন পান করলেই নিশ্চিতভাবে কোনো রোগ প্রতিরোধ হবে বা শরীরের কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

প্রাকৃতিক হলেও সতর্ক থাকা জরুরি

নিম, করলা ও জাম পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে বা নিয়ম না মেনে সেবন করলে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নিজের সিদ্ধান্তে নিয়মিত ভেষজ রস পান করা উচিত নয়। কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বন্ধ করে শুধু নিম-করলা-জামের রসের ওপর নির্ভর করাও নিরাপদ নয়। কারণ প্রাকৃতিক উপাদান চিকিৎসকের নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প নয়।

কীভাবে দেখবেন এই পানীয়কে

নিম-করলা-জামের রসকে চাইলে খাদ্যতালিকার একটি ভেষজ পানীয় হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এটিকে কোনো অলৌকিক পানীয় বা সব রোগের সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাকৃতিক উপাদানের নিজস্ব কিছু গুণ থাকলেও তার মানে এই নয় যে বেশি খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যাবে। পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই যেকোনো ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা উচিত।
 

আরও পড়ুন

×