ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকার : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের আস্থা

বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের আস্থা
×

রুহুল কবির রিজভী

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:২২ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি ও সংবাদমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা প্রায় দুই মাস অবরুদ্ধ থেকেও নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৯৯০ সালে রাকসু নির্বাচনে প্যানেল থেকে একাই ভিপি নির্বাচিত রিজভী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইতিহাসে ১৯৯২ সালে প্রথম কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে সমকালের পক্ষে কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কামরুল হাসান

সমকাল: বিএনপির ৪৮ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

রুহুল কবির রিজভী: বিএনপি বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। মানুষের মধ্যে এই দলের প্রতি আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। বিএনপি সেই আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে। কারণ, মানুষের জীবনে যে বিষয়গুলোতে সংকট থাকে এবং যে প্রক্রিয়ায় জীবনপ্রবাহকে একটু উন্নততর করা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। খালেদা জিয়া নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনার্স বা ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একজন মেয়ে যখন শিক্ষা লাভ করবে, তখন সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি করতে পারবে। শিক্ষায় উন্নতি করতে পারলে জাতি দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
সমকাল: জিয়াউর রহমানের আদর্শের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান রাজনীতির তুলনা করলে কীভাবে দেখবেন?

রুহুল কবির রিজভী: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনা করে বিশ্ববরেণ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে জনস্বার্থের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁর হাত দিয়েই হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আমরা দেখেছি, তিনি সেই জায়গাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে মানুষের সংকট সবচেয়ে বেশি। অনেক দেশের শ্রমবাজারে আমাদের শ্রমিকদের যাওয়া বন্ধ ছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে মালয়েশিয়া সফর করেছেন, এরপর চীন। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষের ন্যূনতম আর্থিক ভিত্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। হতদরিদ্র মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, পুরোহিতদের সম্মানীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে যদি ন্যূনতম অর্থের প্রবাহ তৈরি করা যায়, তাহলে মানুষ অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে নারীর হাতে অর্থ গেলে তারা সেটি বিনিয়োগ করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করেন। হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশু কিনে বড় করেন এবং বিক্রি করে সম্পদ তৈরি করেন। এই চিন্তা থেকে সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এর সুদূরপ্রসারী ফল আমরা পাব।

সমকাল: এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে খালেদা জিয়া নেই। কীভাবে স্মৃতিচারণ করবেন?

রুহুল কবির রিজভী: এটি দলের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ যে কোনো জাতীয় দিবসে আমরা নেত্রীর উপস্থিতির অপেক্ষা করতাম। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং নানা কর্মসূচি পালন করতাম। তাঁকে ঘিরেই ছিল আমাদের প্রেরণা ও উদ্দীপনা। আজ তিনি নেই। তবে তাদের উত্তরসূরি এবং সন্তান তারেক রহমান আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নীতি অনুযায়ী তিনি এখন পর্যন্ত যে কাজ করছেন, তাতে জনগণের কাছে বিষয়টি প্রতিভাত। জিয়াউর রহমান যেমন খুব স্বাভাবিক ও সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন, তারেক রহমানও তাই করছেন। দুজন একই পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। জনগণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা রয়েছে। 

সমকাল: ১১ দলীয় জোট সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী?

রুহুল কবির রিজভী: পৃথিবীতে স্বীকৃত বিষয় হলো, যে কোনো আলোচনা সংসদে হতে পারে। কোনো কিছু সংস্কার করতে হলে দেশের প্রচলিত সংবিধানের আওতার মধ্যে থেকে করতে হবে। জুলাই সনদে অনেক রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সেখানে যে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চাই। ভিন্নমত প্রকাশ করা কি অন্যায়? এটা কি গণতন্ত্রে নিষিদ্ধ? আমরা যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে সবসময় আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখতে হবে। আপনার বক্তব্য আপনি বলবেন, আমার বক্তব্যও শুনতে হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় উপনীত হবো।

সমকাল: বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করবেন?

রুহুল কবীর রিজভী: আমি বলে দিলাম, আমার কথাই মানতে হবে; না মানলে আন্দোলন করব–এটা তো জুলাইয়ের স্পিরিট হতে পারে না। জুলাইয়ের স্পিরিট হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় শেখ হাসিনা এমন একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যেখানে দলপ্রধান বা সরকারপ্রধান যা বলবেন সেটিই চূড়ান্ত– এমন মানসিকতা ছিল। বিএনপি কখনও এটি বিশ্বাস করে না। বিএনপি বারবার আলোচনার টেবিলে বসার কথা বলেছে। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হোক– জামায়াতও এমন কোনো কাজ করবে বলে আমি মনে করি না। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণতন্ত্রের পথচলা আরও এগিয়ে নিতে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

সমকাল: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে সে বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো বহিষ্কার বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

রুহুল কবির রিজভী: এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে দল থেকে বলা হয়েছে, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না। স্থানীয় ইউনিটগুলো বিষয়টি দেখবে। তবে এও বলা হয়েছে, দল যাকে সমর্থন করবে, তার বিপরীতে যেন দলের কেউ না দাঁড়ায়। কেউ যদি সেটি না মানে, তাহলে স্থানীয় ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী তাঁর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমকাল: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটসঙ্গীদেরও সমর্থন দেওয়া হবে?
রুহুল কবির রিজভী: এটি আলোচনার বিষয়। যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন বিষয়টি সামনে আসবে। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় আসেনি।

সমকাল: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রুহুল কবির রিজভী: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

×