ডাকাত: সংঘর্ষ, দৈবশক্তি আর প্রেমের আখ্যান
ডাকাত ছবির দৃশ্যে ম্রুনাল ঠাকুর ও আদিভি শেষ
ইলমা আজাদ
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রন্ধনশৈলীর মতোই ভারতীয় সিনেমাগুলো ‘মসলাদার’ করে তোলার চেষ্টা বহু বছর ধরে চোখে পড়ছে। একই গল্পে অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি থেকে শুরু করে যত কিছুর মিশ্রণ ঘটানো সম্ভব, তা নিয়ে রীতিমতো নিরীক্ষায় মেতে আছেন নির্মাতারা। তারপরও ঘুরেফিরে সেই সিনেমার জয়ধ্বনি শুনতে চাওয়া যায়, যার গল্প ও চরিত্র উপস্থাপনায় নতুনত্ব। এককথায়, গল্প যে সিনেমার প্রধান শক্তি, তা সহজেই কেড়ে নিচ্ছে দর্শক মনোযোগ। সেটি বুঝতে পেরেই বড় তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধার চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের গল্পের সিনেমাগুলোকে বেছে নিচ্ছেন ম্রুণাল ঠাকুর। সে কারণে দক্ষিণ ভারতীয় এই অভিনেত্রীর বলিউডে জায়গা করে নিতেও খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার পথে ম্রুণাল। দর্শকমনে কীভাবে কড়া নাড়া যায়, তার আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরতে চলেছেন এই অভিনেত্রী; যার নাম ‘ডাকাত: এ লাভ স্টোরি’। নির্মাতাদের কথায় এটি অ্যাকশন, দৈবশক্তি আর এক নিবিড় প্রেমের আখ্যান; যা সহজেই দর্শকমনে ছাপ ফেলবে। আগামীকাল ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে এই সিনেমাটি; যেখানে প্রথমবারের মতো জুটি হিসেবে দেখা যাবে ম্রুণাল ঠাকুর ও আদিভি শেষকে। তাদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুরাগ কাশ্যপ; যাকে ব্যতিক্রমী সিনেমার পরিচালক হিসেবে সবাই চেনেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, নির্মাতার পাশাপাশি অনুরাগ অল্প সময়েই নিজেকে শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাই ‘ডাকাত: এ লাভ স্টোরি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে মুক্তির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকেই। এখন তাই আগামীকালের অপেক্ষা, যখন প্রেক্ষাগৃহগুলোয় দর্শক ভিড় জমাবেন এই সিনেমা দেখার উদ্দেশ্যে। দিনের সব শো শেষ হওয়ার পরই প্রমাণ হবে, ম্রুণাল ও অনুরাগ এ যাত্রায় কতটা সফল হলেন। একই সঙ্গে এও স্পষ্ট হবে অভিনেতা হিসেবে আদিভি শেষ কতটা পথ পাড়ি দেওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।
‘ডাকাত: এ লাভ স্টোরি’ বক্স অফিস ফলাফলের জন্য না হয়, কিছুটা সময় অপেক্ষা করা যাবে। তবে তার আগে জেনে নেই, কেন এই সিনেমা নিয়ে এখনই এত আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্মাতা এবং শিল্পীদের কথা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, গল্প এই সিনেমার মূলশক্তি; যা আবর্তিত হয়েছে দুই ডাকাতকে কেন্দ্র করে। অপরাধ জগতের রুক্ষ আর কঠিন বাস্তবতার মাঝে কীভাবে হঠাৎ ভালোবাসার ছোঁয়া লাগে এবং সেই প্রেম তাদের জীবনকে কোনো অনিশ্চিত গন্তব্যে নিয়ে যায়, তা নিয়েই এগিয়েছে এর চিত্রনাট্য। সদ্য প্রকাশিত ট্রেলারে অনুরাগ কাশ্যপের রহস্যময় ও শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকদের মনে সিনেমাটি নিয়ে বাড়তি কৌতূহল ও রোমাঞ্চ জাগিয়ে তুলেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি আদিভি শেষ এবং পরিচালক শেনিল দেও যৌথভাবে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন। যেখানে উঠে এসেছে বিশ্বাসঘাতকতা আর রোমাঞ্চের এক জটিল রসায়ন। তাই হ্যারি ও জুলিয়েট নামে দুই তরুণ-তরুণীর এই প্রেমাখ্যানের পরিণতি জানতে দর্শককে সিনেমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। একই সঙ্গে হ্যারি আর জুটিয়েটের গল্পে রেশাদ আজিমের অনুপ্রবেশ গল্পের মুহূর্তগুলো রোমাঞ্চকর করে তুলবে বলেও নির্মাতাদের দাবি। শুধু তাই নয়, নির্মাতা এই আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন যে, প্রতিটি চরিত্রে যেমন চেনা মুখের ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে, তেমনি প্রতিটি ঘটনা সমাজ-বাস্তবতা নিয়ে তুলে আনবে কিছু প্রশ্ন। তাই প্রধান তিন চরিত্রের পাশাপাশি সিনেমার অন্য পাত্রপাত্রীদের উপস্থিতি অযৌক্তিক বলে মনে হবে না। সেসব চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে পরীক্ষিত শিল্পীদের, যাদের অভিনয় নিয়েও প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। তেমনই কিছু চরিত্র পর্দায় তুলে ধরেছেন নন্দিত অভিনেতা প্রকাশ রাজ, অতুল কুলকার্নি, কামাক্ষি ভাস্ককরলা, রমা রাও যাদব প্রমুখ। তেলেগু ও হিন্দি ভাষায় মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন সুপ্রিয়া ইয়ারলাগড্ডা। পরিবেশনায় দায়িত্বে রয়েছে বিখ্যাত অন্নপূর্ণা স্টুডিওস।
অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার আদিভি শেষের কথায়, ‘এই গল্প একদিকে যেমন হরির, অন্যদিক থেকে সরস্বতীর; যেখানে শুধু প্রেম নয়, আছে রাগ, প্রতিশোধ আর ভেঙে যাওয়া প্রেমের পুনঃস্থাপন। সব মিলিয়ে অ্যাকশন আর ইমোশনের এই মেলবন্ধন সব ভাষার দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হবে বলেই আশা করছি।’
- বিষয় :
- ডাকাত
