ফোনের ওপারে প্রেম
দৃশ্য :: ‘ভয়েসমেইল অব ইসাবেলা’
মীর সামী
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
শোক কখনও কখনও মানুষকে নিঃশব্দ করে দেয়, আবার কখনও সেই শোকই হয়ে ওঠে যোগাযোগের এক বিকল্প ভাষা। প্রিয়জনকে হারানোর পর কথা বলা থেমে যায়। অনুভূতি থেমে থাকে না। ঠিক এমনই এক আবেগঘন, অদ্ভুত ও আধুনিক প্রেমের গল্প নিয়ে আসছে নেটফ্লিক্সের নতুন রোমান্টিক কমেডি ‘ভয়েসমেইল ফর ইসাবেলা’। আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবিটি শুধু প্রেমের গল্প নয়। এটি স্মৃতি, ভুল যোগাযোগ এবং ভাগ্যের এক অদ্ভুত খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিল, যাকে দেখা যায় এক গভীর ব্যক্তিগত কষ্ট বহন করতে করতে বেঁচে থাকতে। প্রিয় বোন ইসাবেলের (সিয়ারা ব্রাভো) মৃত্যুর পর সে বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারে না। তাই ইসাবেলের পুরোনো নম্বরে সে নিয়মিত ভয়েসমেইল করে। সেখানে দিনের ছোটোখাটো ঘটনা থেকে শুরু করে ভেঙে পড়া মুহূর্ত পর্যন্ত। এই ভয়েসমেইলগুলো কখনও হাস্যরসাত্মক, কখনও আবার আবেগী। সেখানে উঠে আসে তার কাজের জায়গার অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে তার বস শেফ বাসতিয়েনের (নিক অফারম্যান) কঠিন স্বভাব, আর পেস্ট্রি শেফ হওয়ার স্বপ্নে লড়াইয়ের গল্প। জিলের এই একতরফা কথোপকথন আসলে তার শোকের সঙ্গে বেঁচে থাকার এক উপায়। যেখানে শ্রোতা নেই, কিন্তু অনুভূতি আছে। অন্যদিকে অস্টিনের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়েস (নিক রবিনসন) নতুন অফিসে অনিচ্ছাকৃতভাবেই ইসাবেলের নম্বর ব্যবহার করতে শুরু করে। সেখান থেকেই শুরু হয় গল্পের দারুণ টুইস্ট।
ওয়েস ধীরে ধীরে শুনতে থাকে জিলের পাঠানো ভয়েসমেইলগুলো। প্রথমে কৌতূহল, তারপর সহানুভূতি, আর একসময় এমন এক আবেগ; যা তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রতিটি বার্তা যেন তার কাছে একেকটি ছোটগল্প, একেকটি টুকরো জীবন। এই দুই অচেনা মানুষের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই, তবুও ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তৈরি হয় এক ধরনের অদৃশ্য ঘনিষ্ঠতা; যা আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সম্পর্কের নতুন এক রূপ দেখায়। দূরত্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে জন্ম নেয় অনুভূতি। ধীরে ধীরে ওয়েস বুঝতে শুরু করে, সে শুধু শুনছে না। জড়িয়েও পড়ছে। জিলকে না দেখেও তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যাচ্ছে সে। অন্যদিকে জিল জানেই না, তার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো এখন একজন অচেনা মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে। ওয়েস শেষ পর্যন্ত নিজের অনুভূতির কথা জানাতে চলে আসে স্যান ফ্রান্সিসকোতে। ট্রেলারে দেখা যায়, ওয়েস বসে আছে জিলের প্রিয় বেঞ্চে, যেখান থেকে দেখা যায় গোল্ডেন গেট ব্রিজ। ছবিটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন লিয়া ম্যাকএনড্রিক; যিনি নিজেও অভিনয় করেছেন ব্রিডা চরিত্রে। গল্পের কাঠামোতে তিনি শোক, হাস্যরস এবং আধুনিক সম্পর্কের জটিলতাকে একসঙ্গে বুনেছেন।
এই সিনেমায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যারি শাম জুনিয়র। পরিচালকের মতে, ওয়েস চরিত্রটি খুব সহজেই উপস্থাপিত হতে পারত। একজন নৈতিকভাবে প্রশ্নকর্তা হিসেবে। কিন্তু নিক রবিনসনের অভিনয় চরিত্রটিকে মানবিক ও সংবেদনশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে জোই ডয়েচ চরিত্রটির প্রতিটি স্তরে শোক, রাগ, হাসি এবং নতুন প্রেমের অনুভূতি একসঙ্গে ধারণ করেছেন, যা গল্পের আবেগকে আরও গভীর করেছে।
- বিষয় :
- বিনোদন
