ঘরে থেকে বর্ষবরণ
ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখুন
--
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৫৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
এবার বাংলা নববর্ষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় মানুষ যেভাবে ঘরে অবস্থান করে উদযাপন করেছে, তার বহুমুখী তাৎপর্য রয়েছে বলে আমরা মনে করি। বস্তুত পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান ঐতিহ্য। এ দিনটি বাঙালি প্রতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা, ছায়ানটের সংগীতসহ সারাদেশে হাজারো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। উৎসবের এ দিনটি পালন করতে অনেকে দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুতি নেন; দোকানিরা খোলেন ব্যবসার হালখাতা। কিন্তু এবার সবাই নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই ভিন্ন আঙ্গিকে দিবসটি পালন করেছেন। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে মানুষ করোনাদুর্যোগ পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছেন এবং এ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রত্যেকে তার কর্তব্য অনুধাবন করতে পেরেছেন। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে সর্বাগ্রে ঘরে থাকা যে গুরুত্বপূর্ণ এবং নববর্ষের মধ্যেও মানুষ তা যথাযথভাবে মেনে চলেছেন, সেটা ইতিবাচক। আমরা মনে করি, এটি প্রশাসন থেকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পর্যন্ত মেনে চলতেই হবে।
করোনা বিস্তারের এ সময়ে ঘরে থাকতে পারলে আমরা যেমন নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারব, তেমনি নিজেকে বাঁচানোর মাধ্যমে পরিবার ও সমাজ সুরক্ষা পাবে। তাই ঘরে থাকাই এই মুহূর্তে জাতীয় কর্তব্য। অমরা অনেকেই নানা দায়িত্বের চাপে হয়তো পরিবারকে সেভাবে সময় দিতে পারি না। বলা বাহুল্য, এবার সে সুযোগটিই এসেছে। তা ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও আমাদের সামাজিক দূরত্ব ঘোচানো সম্ভব। এবার হয়তো বর্ষবরণে রমনার বটমূলে সেই আয়োজন হয়নি। হয়নি রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রাও। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা নববর্ষের নানা আয়োজনে এবারও উৎসবের সুরধ্বনি ছড়িয়ে পড়েছে কোটি বাঙালির হৃদয়ে। আমরা চাই, পহেলা বৈশাখে সবাই যে দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন; সচেতনতা ও সতর্কতায় ঘরে থেকে এ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশ নিয়েছেন, তা যেন আমরা ভুলে না যাই। আমাদের ভয় নয়; সময় এখন সতর্কতার। তাহলেই করোনার আঁধার ঘুচিয়ে উঠবে নতুন সূর্য। ভীতির মেঘ জমেছে ঠিকই; তার আড়ালে যে সূর্যও হাসছে; আমরা জানি।
