ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি

সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জরুরি

সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জরুরি
×

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:১৪ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম নগরীতে ছয় মাস পূর্বে যেই খোঁড়াখুঁড়ি হইয়াছে, সেই খানাখন্দ অদ্যাবধি নাগরিকদের দুর্ভোগের কারণ হইবার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। বুধবার সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি আলোকচিত্রে দেখা যাইতেছে, চট্টগ্রামের এমএ আজিজ সড়কের নারিকেলতলায় খানাখন্দ জলপূর্ণ। সেইখানে পথচারীদের চলাচলে নিত্য ভোগান্তি। ছয় মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পের নির্মাণকার্য সম্পন্ন হইলেও অদ্যাবধি ততাকার খানাখন্দগুলি ভরাট করা হয় নাই। প্রসঙ্গত, চলিত বৎসরের শুরুতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে লালখান বাজার হইতে পতেঙ্গা সৈকত পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হইয়াছে। উহার মূল অংশে গাড়ি চলাচল শুরু হইলেও এক্সপ্রেসওয়ের ১০টা র‍্যাম্পের একটাও এখন পর্যন্ত চালু করিতে পারে নাই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বৎসর অতিক্রান্ত হইলেও র‍্যাম্পগুলির কাজ সম্পূর্ণ সমাপ্ত না হইবার কারণে নগরবাসী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিপূর্ণ সুফল হইতে বঞ্চিত। সেইখানে যদ্রূপ র‍্যাম্পের পিলার নির্মাণের পরও উহার গর্ত ভরাট করা হয় নাই, তদ্রূপ উহা নির্মাণের নিমিত্তে ফুটপাত বন্ধ করিবার কারণে কোথাও মূল সড়ক দিয়াই পথচারীরা চলিতেছেন জীবনের ঝুঁকি লইয়া। কোথাও র‍্যাম্পের কাজ চলমান সড়ক বন্ধের কারণে যানজটের কারণ হইয়াছে। কোথাও র‍্যাম্প তৈয়ার হইলেও সংযোগ ও সড়ক ঠিক করা হয় নাই। 

খোঁড়াখুঁড়ি-সৃষ্ট দুর্ভোগ রাজধানীতেও কম নহে। একাধিক পরিষেবা সংস্থার পর্যায়ক্রমে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীতে বরং জনজীবন অধিকতর দুর্ভোগে পড়ে, যাহা কার্যত সাংবৎরিক সমস্যায় পরিণত বলিলেও ভুল হয় না। ধারাবাহিক এই খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সংকুচিত হইয়া পড়ে। ফলে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং উহা ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি করে। তদুপরি বৃষ্টি হইলে শুধু সংশ্লিষ্ট সড়কেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না; খানাখন্দে পড়িয়া ভবলীলা সাঙ্গ হইবার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রামেই এহেন হৃদয়বিদারক ঘটনার বহু নজির ইতোমধ্যে পরিদৃষ্ট। আমরা জানি, এই কারণে বর্ষা মৌসুমে অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে সড়ক খোঁড়াখুঁড়িকে অনুৎসাহিত করা হয়। রাজধানীতে বর্ষায় সড়ক খনন না করিবার নীতিমালাও হইয়াছে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও উহার যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যাইবে না। আমরা ইহাও জানি, যেই সংস্থাই সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করুক, তজ্জন্য সড়কের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার অনুমতি লইতে হয়। তৎসহিত সড়ক মেরামত বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কও পরিশোধ করিতে হয়। চট্টগ্রামে কি উক্ত নিয়ম প্রযোজ্য নহে? তাহা হইলে আলোচ্য সড়কটি অদ্যাবধি মেরামত হইল না কেন?

বন্দরনগরীতে র‍্যাম্প নির্মাণ লইয়া যেই নৈরাজ্য দেখা যাইতেছে; চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উহার দায় উপেক্ষা করিতে পারে না।

সহযোগী এক দৈনিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেইখানে ১০টার মধ্যে মাত্র চারটা র‍্যাম্প নির্মাণ করা হইয়াছে। কর্তৃপক্ষের উচিত র‍্যাম্পগুলির সহিত এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ দিয়া নাগরিকের চলাচলের ব্যবস্থা করা। যেই কোনো প্রকল্প নির্দিষ্ট সময় শেষ না হইলে স্বভাবতই উহার ব্যয় যদ্রূপ, তদ্রূপ দুর্ভোগও বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে উহাই ঘটিয়াছে। আমরা চাই, সরকার জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করিয়া প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্য দ্রুত সমাপ্তকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। বিশেষ করিয়া ছয় মাস অতিক্রান্তের পরও তথায় খানাখন্দ থাকিবার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে জবাবদিহি করিতে হইবে। এক্সপ্রেসওয়েটি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করিলেও নিম্নের সড়কটি সিটি করপোরেশনের। বিশেষত উভয় সংস্থা একই মন্ত্রণালয়ভুক্ত হইবার কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও দায়দায়িত্ব উপেক্ষা করিতে পারে না। নগর উন্নয়নে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতকরণে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের দায়িত্ব তো উহারই।

আরও পড়ুন

×