ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চারদিক

হাবিপ্রবির দ্বিতীয় সমাবর্তন

হাবিপ্রবির দ্বিতীয় সমাবর্তন
×

মো. এনামউল্যা

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:১৪ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আজ। সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করার জন্য আট হাজার ৩৩ জন গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। সমাবর্তন হলো একাডেমিক অভিযাত্রার পূর্ণতা প্রাপ্তির এক মাহেন্দ্রক্ষণ। আমি সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। 

ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক রাষ্ট্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে গত বছরের ২৩ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করি। এ সময় আমার অভিভাষণে যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার আন্তরিক এবং অব্যাহত প্রচেষ্টায় আমরা সমাবর্তন আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমি সব অংশীজনকে ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 

সমাবর্তনে যারা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ লাভ করেন, তাদের কাছে ন্যায়-নীতি ও যুক্তির অনুশীলনও কাম্য। প্রাচীন ভারতীয় ভাববাদী দার্শনিক গৌতম বুদ্ধ এবং গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ন্যায় ও যুক্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়-যুক্তির অনুশীলনও শিক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যাশিত। আচার-আচরণে পরিমিতি ও ঔচিত্যবোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনুকরণীয় হবেন। সেটাও সবাই প্রত্যাশা করেন। এ কথা সত্য, উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারীদের আচার-আচরণে এ প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। স্মতর্ব্য, সমাবর্তনের গাউন একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক পরিশ্রমলব্ধ পরিধেয় বস্ত্র। এর যথাযথ সম্মান ধরে রাখার ওপর দায়িত্বশীল থাকা বাঞ্ছনীয়। 

হাবিপ্রবির আটটি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিভাগের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী যুগোপযোগী এবং আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। এই বিভাগগুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান অত্যন্ত উচ্চমানের এবং প্রশংসনীয়। বিশ্বসেরা টুপারসেন্ট গবেষকের তালিকায় শিক্ষক-গবেষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও গৌরব বৃদ্ধি করেছে। হাবিপ্রবিকে নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ স্বপ্ন দেখেন। তারা আশা করেন, আধুনিক শিক্ষা এবং জ্ঞান অন্বেষণে এ বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দেবে। হাবিপ্রবিকে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং দেশসেরা হিসেবে আবির্ভূত করার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বের যোগ্য মানব হিসেবে গড়ে তোলা, দেশ-জাতির কল্যাণে উচ্চমানের গবেষক তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে আমার নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন অবিচল এবং নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আমি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি। 

আমি এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সমাজের চারপাশের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সমতা, বৈষম্য ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে বিপ্লবোত্তর একটি সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিযুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান যুগে প্রতিনিয়ত নানা বিষয়ে গুজবের ডালপালা ছড়ায়। আমি ছাত্র-শিক্ষক এবং জনসাধারণকে এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে বলব। একই সঙ্গে বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে অংশীজন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি চাই শিক্ষার্থীরা নিজেকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চায় সম্পৃক্ত থাকুক। প্রসঙ্গক্রমে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অচিরেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (হাকসু) নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।

অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা: উপাচার্য, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

আরও পড়ুন

×