তারেক রহমান ফেরা
জনগণের আকাঙ্ক্ষা, দেশে গণতন্ত্র ফিরুক
ড. মাহবুব উল্লাহ: অর্থনীতিবিদ; সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মাহবুব উল্লাহ
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০১:১৪ | আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৩:০৫
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ভিন্ন একটা অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। জনগণ আবেগে আপ্লুত। তাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। মানুষ তাদের আন্তরিকভাবে দেশে স্বাগত জানিয়েছে। তারেক রহমানের কাছে যে জনগণের বিশাল প্রত্যাশা, ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে তার প্রমাণ হয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন, সেটাই সবার আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি ঐক্যবদ্ধ জনগণকে নিয়ে এগিয়ে যাবেন।
সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো দেশ আধিপত্যমুক্ত হোক। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। দেশের মানুষ নিরাপদে থাকুক। সন্ত্রাস নির্মূল হোক এবং জনগণের অর্থনৈতিক ভাগ্যের পরির্তন হোক। মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হোক– এগুলোই মানুষের প্রত্যাশা।
তারেক রহমান এমন সময়ে এসেছেন, যখন নির্বাচন সামনে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন তিনি লন্ডন থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর দেশে ফেরা কোনো সহজ বিষয় নয়। বস্তুত তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কখনোই ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি। এমনকি দেশে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে কুয়াশা তৈরি হয়েছিল। তিনি নিজেই বলেছেন, সব বাধা অপসারিত হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই তিনি তাঁর দলের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ পেতে সবার সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন।
এখন সশরীরে তিনি মাঠে এসেছেন। এর প্রভাব নির্বাচনে কীভাবে পড়বে, তা আগামী দিনগুলোতে তাদের কাজের ওপর নির্ভর করবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, কীভাবে দলটির বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছায়, তাদের কর্মসূচি জনগণের কাছে কীভাবে যায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে এ বিশাল সমাবেশ নিঃসন্দেহে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব রাখবে। প্রভাব থাকবে এ অর্থে, যে দলটি এত বড় সমাবেশ করতে পেরেছে, সে দলটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ও প্রভাবশালী দল। এ প্রভাবকে অস্বীকার করা যাবে না। সেদিক থেকে নির্বাচনে তারা একটা বড় রকমের সুবিধা পেতে পারে। তবে এর সঙ্গে আরও অনেক কিছু যুক্ত। যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, কিংবা প্রত্যাশী হলেও মনোনয়ন পাননি, তাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের অসন্তোষ আছে। সে অসন্তোষ নিরসন করতে হবে। একই সঙ্গে পুরো দলকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হয়, তাহলেই নির্বাচনে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করি।
ড. মাহবুব উল্লাহ: অর্থনীতিবিদ; সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
