ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ইসলাম ও সমাজ

রমজান-পরবর্তী নফল রোজা

রমজান-পরবর্তী নফল রোজা
×

আবু রুফাইদাহ রফিক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফরজ ইবাদতের বাইরে অন্য সব ইবাদতকেই নফল ইবাদত বলা হয়। রাসুল (সা.) ফরজ ইবাদতের পর অনেক নফল ইবাদত করতেন এবং সাহাবিদের তা করার জন্য উৎসাহ দিতেন। তিনি বলেছেন, কেয়ামতের দিন নফল ইবাদত দ্বারা ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করা হবে। সুতরাং আমাদের উচিত ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত পালন করা। নফল নামাজ যেমন রয়েছে, তেমনি নফল রোজাও রয়েছে। রমজান ছাড়া সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে অন্য সময়ে যেসব রোজা রাখা হয়, সেগুলোই হলো নফল রোজা। ফরজ রোজা পালনের পর আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনে এই রোজাগুলো বেশ সহায়ক। তা ছাড়া রমজানের রোজার মধ্যে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে নফল রোজার মাধ্যমে তার পূর্ণতা অর্জিত হবে। রমজানের পর সারাবছর আমরা আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং কুপ্রবৃত্তি দমনের জন্য যেসব সিয়াম পালন করতে পারি, তা হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো–

১. শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখার পরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম)

২. প্রতি মাসে তিনটি রোজা। প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজাকে হাদিসে সারাবছর সিয়াম পালনের সমতুল্য বলা হয়েছে। (আবু দাউদ)
আবু হুরায়রাহ (রা.) বলেন, আমার বন্ধু মুহাম্মদ (সা.) আমাকে তিনটি আমলের উপদেশ দিয়েছেন– ক. প্রতি মাসে তিনটি রোজা; খ. দুই রাকাত সালাতুদ্দোহা বা চাশতের নামাজ এবং গ. রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিতর নামাজ পড়া। (বুখারি ও মুসলিম)

৩. প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা। রাসুল (সা.) বলেন, সোম ও বৃহস্পতিবার আমলগুলো উপস্থাপন করা হয়। আমি চাই আমার আমল সিয়াম পালন অবস্থায় উপস্থাপন করা হোক। (তিরমিজি)

৪. আরাফার দিবসের রোজা। এ দিবসে রোজা রাখার ব্যাপারে রাসুলকে (সা.) প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা তো আগের ও পরের দুই বছরের পাপ মুছে দেয়। (মুসলিম)

৫. আশুরার রোজা। মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। হাদিসে এসেছে, এই দিন রোজা রাখলে আগের এক বছরের পাপ মোচন হয়। (মুসলিম) কিন্তু ইহুদিরা একই দিনে রোজা পালন করত বিধায় সাহাবারা এই দিন রোজা রাখার ব্যাপারে আপত্তি জানালে রাসুল (সা.) বললেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে মহররমের ৯ তারিখেও রোজা রাখব। (মুসলিম) সুতরাং মহররমের ৯ ও ১০ উভয় তারিখেই রোজা রাখা উচিত, যেন ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকে।

৬. এক দিন পরপর রোজা রাখা। দাউদের (আ.) নিয়ম ছিল, তিনি এক দিন পরপর রোজা রাখতেন। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে (নফল) রোজাগুলোর মধ্যে এই নিয়মে রাখা রোজাই শ্রেষ্ঠ রোজা। (বুখারি ও মুসলিম)

৭. জিলহজ মাসের প্রথম ৯ দিনের রোজা। হাদিসের ভাষ্য, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো আমলই আল্লাহর কাছে এত বেশি প্রিয় নয়। (আবু দাউদ) সে হিসেবে এ মাসের প্রথম

৯ দিন সিয়াম পালনের ফজিলত অনেক। উল্লেখ্য, এ মাসের ১০ তারিখ যেহেতু ঈদুল আজহা, সেহেতু এ দিন রোজা রাখা হারাম। এ মাসের ৯ তারিখই হলো আরাফার দিন।

৮. শাবান মাসের রোজা। হাদিসে এসেছে– রাসুল (সা.) রমজানের পর শাবান মাসেই বেশি সিয়াম পালন করতেন।

৯. অবিবাহিতদের রোজা। রাসুল (সা.) বলেন, যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে চক্ষুকে নিম্নগামী রাখতে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজতে রাখতে অধিক সহায়ক। 
রমজানের পর এই রোজাগুলো পালনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য সচেষ্ট হই। 

আবু রুফাইদাহ রফিক: অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), জয়নারায়ণপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
 

আরও পড়ুন

×