ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক

পোপ বিশ্বকে দেখিয়েছেন কীভাবে ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়

পোপ বিশ্বকে দেখিয়েছেন কীভাবে ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়
×

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও

অ্যান্ড্রু মিত্রোভিকা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৪৯ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:২০

‘ভালো মানুষেরা' সাদা টুপি পরেন। মাঝে মাঝে আমরা তাই দেখতে পাই। আমি যে ‘ভালো মানুষটির’ কথা বলছি, তিনি হলেন মার্কিন বংশোদ্ভূত ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ। পোপ লিওর অনুসারী বিশাল; ১৪০ কোটি। তিনি যে ‘সাদা টুপি’ পরেন, তা হল ‘জুক্কেত্তো’ নামক একটি খুলিতে পরা টুপি, যা তাঁর কর্তৃত্ব এবং বিনয় উভয়কেই সমানভাবে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

সম্প্রতি পোপ লিও তার শান্ত নম্রতার সাথে নিজের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে এমন এক উৎপীড়কের মোকাবিলা করছেন, যাকে অনেক আগেই মোকাবিলা করা উচিত ছিল। অবশ্য সেই উৎপীড়ক হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই উৎপীড়ক প্রেসিডেন্টের কূটনীতির ধারণাও বিদঘুটে। আর তা হল সারাবিশ্বে দম্ভভরে ঘুরে বেড়ানো এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীদের ভীতি প্রদর্শন করে তাদের সম্মতি বা বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে বালখিল্য ও অশ্লীল গালি দিয়ে হুমকি দেওয়া।

বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের প্রবণতা কাজ করেছে। প্রায়শই বহু প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে তোষামোদ করার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের এই সংকীর্ণ যুক্তিটি হল, যে ট্রাম্পের অহংবোধকে তুষ্ট করলে তাঁর তুচ্ছ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রবৃত্তি শান্ত হবে। এধরনের মনোভাব একজন উদ্ধত প্রেসিডেন্টকে আরও সাহসী করে তুলেছে, যিনি প্রত্যেক উৎপীড়কের মতোই আধিপত্য বিস্তারের আত্মমুগ্ধ ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে দুর্বলতার সুযোগ নিতে তীব্র আনন্দ পান। স্পষ্টতই, পোপ লিও জবরদস্তি ও ঘৃণার প্রতিষেধক হিসেবে তোষামোদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পোপ যুদ্ধকালে ক্ষিপ্ত ও নির্বোধ পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন, যা প্রশংসার যোগ্য। 

এই প্রশংসার ব্যাপারের আরও একটি বিষয় তুলে ধরা দরকার। লিও কেবল তাঁর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি দুঃখকষ্ট ও অবিচারের বিরুদ্ধে কেবল সম্মানজনক প্রতিরোধই গ্রহণ করেননি, বরং একে স্বৈরাচারী ঔদ্ধত্যের এক তীক্ষ্ণ ও আপসহীন অবস্থানে পরিণত করেছেন। পশ্চিমা, ‘উদার’ গণতন্ত্রের অধিকাংশ ‘নেতা’ যখন ট্রাম্পের গণহত্যার বাসনার প্রকাশ্য ইচ্ছার নিন্দা করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তখন লিও কোনো দ্বিধা বা সামান্যতম শর্ত ছাড়াই তাঁর আপত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।

পোপ লিও ইতালীয় ভাষায় বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, ইরানের সমগ্র জনগণের বিরুদ্ধেও হুমকি ছিল, এবং এটি সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’। ‘আর আমি সবাইকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই সেইসব নিরীহ মানুষদের কথা ভাবতে, যারা এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

স্বাভাবিকভাবেই, লিওর তিরস্কার ও আবেদন ট্রাম্প এবং তার উগ্র সমর্থকদের একটা বিষয় নিশ্চিত করতে প্ররোচিত করেছে। আর সেটি হল, ‘নির্দোষদের’ দুর্দশা নিয়ে ‘চিন্তা করা’ তাদের কাছে একটি অপ্রীতিকর ও অচেনা ধারণা। ট্রাম্প এবং তার নির্বিচার বোমাবর্ষণে মত্ত সঙ্গীরা ইরানের ওপর এই বিনা উস্কানির হামলাকে এমন এক প্রভুর অনুমোদিত এক প্রয়োজনীয় ধর্মযুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যার শিক্ষায় তারা চোখ বন্ধ করে বিশ্বস্ত থেকেছে। 

অ্যান্ড্রু মিত্রোভিকা: আল জাজিরার কলামলেখক; আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×