ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

প্লাস্টিক বক্সের বিকল্প হোক

প্লাস্টিক বক্সের বিকল্প হোক
×

মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করেছে– প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ দেওয়া হবে। দারুণ উদ্যোগ। শুধু স্কুলব্যাগ উপহার দেওয়া হচ্ছে বলে নয়; প্লাস্টিক, সিনথেটিক, রাবার বা অন্যান্য কৃত্রিম উপকরণের বদলে পাটের তৈরি পণ্য বাচ্চাদের দেওয়া হবে– প্রশংসাটা হবে সেখানে।

স্কুলকেন্দ্রিক আরও একটি খবর সংবাদপত্রের পাতায় পড়ে ভালো লাগল। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের জন্য যদি ইলেকট্রনিক বাস আমদানি করা হয়, তবে সেখানে সরকার ট্যাক্স ছাড় দেবে। অনেক খারাপ খবরের মধ্যেও সাম্প্রতিককালে খবর দুটো দেখে ভালো লেগেছে। 

প্লাস্টিকের মতো উপকরণ পরিবেশ বিপর্যয় কতটা ত্বরান্বিত করতে পারে; এ ব্যাপারে নতুন করে বলার কিছু নেই। ব্যাগগুলো পাটের হওয়ায় অবশ্যই সেটি পরিবেশবান্ধব হবে। আগামী জুলাই থেকে আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতি উপজেলার দুটি স্কুলের প্রথম শ্রেণির বাচ্চাদের এই ব্যাগ উপহার দেবে সরকার। সেই সঙ্গে জামা-জুতাও পাবে শিক্ষার্থীরা। যেটা আগে থেকেই সরকারের প্রকল্প হিসেবে বিদ্যমান।
এ প্রকল্প যাতে সামনের দিনে বড় কলেবরে করা যায়, সে জন্য সরকারের তরফ থেকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ আহ্বানে নিশ্চয় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতিবাচক সাড়া দেবে। তবে এখানে একটা সুপারিশ করতেই হয়; ব্যবসায়ীদের প্রতি শুধু আহ্বান না জানিয়ে কাজটা করার ক্ষেত্রে তাদেরও কিছু প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। যেমন এ তহবিলে যারা অনুদান দেবেন, ওই হিসাব ট্যাক্স ফ্রি হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কিন্তু এর আগেও এমনটা করা হয়েছে। এমনটা হলে ব্যবসায়ীদের সাড়া বেশি মিলবে বলে আমার বিশ্বাস। অথবা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল থেকে এই খাতে খরচ করতে আগ্রহী হয়, সে বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সামান্য নীতি-সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ দুটি কাজ হলে প্রকল্প সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কোটি কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিকর পণ্যের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে রওনা হলে পরিবেশ তো ধ্বংসাত্মক অত্যচার থেকে বাঁচবেই; সেই সঙ্গে আমাদের পাটশিল্পের কথা একবার চিন্তা করুন; সেখানে কতটা গতি আসবে!

স্কুলকেন্দ্রিক এ দুটি কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হবে, সেটা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে ধ্বংসাত্মক অবস্থার মুখে বাঁধ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রচেষ্টা দুটি ভালো– তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই ভালো প্রচেষ্টার সঙ্গে আরও দু-একটি ছোটখাটো বিষয় যোগ করার কথা ভাবা যেতে পারে। যেমন পানি ও টিফিন বক্সের ক্ষেত্রে। এক-দুই দশক আগেও অ্যালুমিনিয়ামের টিফিন বক্স বা পানির পট নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া ছিল খুবই সাধারণ চিত্র।

এখানেও কিন্তু সরকারের করণীয় আছে বলে আমার মনে হয়। সরকার ছোট্ট একটা ঘোষণা অন্তত দিতে পারে– কোনো বাচ্চাকে প্লাস্টিকের পানির পট, টিফিন বক্স আর স্কুলে অনুমোদন দেওয়া হবে না। সেটা হতে পারে আগামী বছরের ক্লাস যখন শুরু হবে তখন থেকে।

কোনো হিসাব ছাড়াই নিশ্চিত করে বলা যায়, সামান্য এই ঘোষণা আমাদের পরিবেশে অসামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। এই উদ্যোগের ফলে প্লাস্টিকের কোটি কোটি টিফিন বক্স আর পানির পটের অত্যাচার থেকে পরিবেশ রক্ষা পাবে। প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে শিশুদের যে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তার হিসাব না-ই করলাম। তবে সবচেয়ে বড় যে উন্নতি হবে, বাচ্চাদের মনোজগতে এটা বড় পরিবর্তন ঘটবে। এই অর্জনও কিন্তু অনেক বড়।

মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম: গণমাধ্যমকর্মী, সংবাদ বিশ্লেষক

আরও পড়ুন

×