ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঈদযাত্রা

মহাসড়ক নির্বিঘ্ন রাখিতে হইবে

মহাসড়ক নির্বিঘ্ন রাখিতে হইবে
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষকে দেশের চারটি মহাসড়কে অন্তত চার প্রকার সমস্যায় পড়িতে হইবে বলিয়া মঙ্গলবার প্রকাশিত সমকালের প্রতিবেদনে যেই সতর্কবার্তা দেওয়া হইয়াছে, উহা আমলযোগ্য। প্রতি বৎসর বিশেষত মুসলমানদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এক কোটিরও অধিক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন। তাহাদের বিপুল অধিকাংশ উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহগামী মহসড়ক চারটি ব্যবহার করিয়া থাকেন।/প্রতিবেদন অনুসারে, যাহারা উত্তরবঙ্গে যাইবেন তাহাদের অনেক স্থানে সংকীর্ণ সড়ক-সেতুর কারণে সৃষ্ট যানজটে পড়িতে হইতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ভোগাইতে পারে ভাঙাচোরা সড়ক; ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে জলাবদ্ধতার সমস্যা এবং ঢাকা-সিলেট সড়কে ভোগান্তির কারণ হইতে পারে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ। সকল কিছুর পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা, সড়কে পশুর হাট, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ন্যায় দীর্ঘদিনের সমস্যাবলিও উক্ত চার পথে যাত্রাকাল দীর্ঘায়িত করিতে পারে।

স্বীকার্য, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এই দেশে নূতন নহে। বহু দশক ধরিয়া এই সমস্যা বিরাজমান। ভুক্তভোগী তো বটেই, অন্যরাও জানেন, এই ভোগান্তির প্রধানতম হইল দীর্ঘ যানজট। উহার কারণে ৪-৫ ঘণ্টার ভ্রমণ ১২-১৩ ঘণ্টায়ও সমাপ্ত না হইবার নজির প্রায় নিয়মিত। ঢাকায় প্রত্যাবর্তনকালেও অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হইবার আশঙ্কায় প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপভোগ করিবার সময় অনেক কমিয়া যায়। আবার এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়িয়া যায়, যাহা হরিষে বিষাদ ডাকিয়া আনে।

একসঙ্গে বিপুল যাত্রী ঢাকা ছাড়িবার কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নহে, যদিও সড়ক ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণের মাধ্যমে উক্ত ভোগান্তি হ্রাস করা যায় বলিয়া বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। তবে সমস্যা হইল, সমস্যা ঘাড়ের উপর না পড়িলে আমরা যদ্রূপ সচেতন হই না, তদ্রূপ প্রতি বৎসর কেবল ঈদ আসিলেই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষসমূহ উক্ত ভোগান্তি হ্রাসের উপায় অন্বেষণে ব্যাপৃত থাকেন। দুর্ভাগ্যবশত, এইবারও ইহার ব্যতিক্রম হইতেছে না। সময় থাকিতে উদ্যোগ লইলে সড়ক-মহাসড়কের আলোচ্য সমস্যাসমূহ ইতোমধ্যে দূর করা যাইত। তাহা না করায় এইবারও সরকারকে ছুটি বৃদ্ধি করিয়া টোটকা সমাধান খুঁজিতে হইতেছে। গত বৎসর ঈদুল ফিতরের পূর্বে টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকায় যাত্রীরা ধাপে ধাপে শহর ত্যাগ করায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কম ছিল। আবার একই বৎসর ঈদুল আজহায় ছুটি কম থাকায় তীব্র যানজট হইয়াছিল। সম্ভবত সেই অভিজ্ঞতা হইতেই আসন্ন ঈদের পূর্বে টানা তিন দিন ছুটি, তৎসহিত শিল্পকারখানা ধাপে ধাপে বন্ধের উদ্যোগ লইয়াছে সরকার। প্রসংগত, এই বৎসর ঈদুল ফিতরের পূর্বে ছুটি ছিল চার দিন। তথাপি কলকারখানায় ছুটির শেষ দিনে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট হয়। 

আমাদের প্রত্যাশা, নিছক ছুটি বৃদ্ধি করিয়া সরকার দায়িত্ব শেষ করিবে না। শিল্পকারখানা ধাপে ধাপে বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিতকরণ এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যও করিবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যাটির তীব্রতা হ্রাসে যাহা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেই সকল কার্যও অবিলম্বে আরম্ভ করিতে হইবে। প্রথমত, মহাসড়কের উন্নয়নকার্য দ্রুত সম্পন্নকরণ, তৎসহিত নিয়মিত সড়ক মেরামতকার্যে উদাসীনতা থাকা উচিত নহে। দ্বিতীয়ত, ঈদে অত্যধিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হালকা সংস্কার করিয়া এবং রং লাগাইয়া নূতন চেহারা দিয়া সড়কে পুরাতন ও জরাজীর্ণ যানবাহন চালানোর সুযোগ বন্ধ করিতে হইবে। তৎস্থলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রণোদনা দিয়া হইলেও সড়কে ফিটনেসসমৃদ্ধ যানবাহন নামাইতে হইবে। নিছক সময়োচিত পরিকল্পনা ও মানসম্মত নির্মাণকার্যের অভাবে প্রতি বৎসর ঈদযাত্রায় এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকিতে পারে না। 

আরও পড়ুন

×