ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

সম্পর্ক কোথায় দাঁড়াল 

সম্পর্ক কোথায় দাঁড়াল 
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

জনাথান এসটে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:৫১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকের সারমর্ম: দুই নেতা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তাদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ছিল তাইওয়ান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাইওয়ান।’ চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, সুন্দরভাবে পরিচালিত হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে। আর শি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, ‘যদি ভুলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি সংঘাতের রূপও নিতে পারে, যা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে যাবে।’

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি– শি জিনপিং তাইওয়ান বিষয়ে হুমকি দিয়েছেন। তারা বরং দুই নেতার হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইল সরবরাহের কাঁচামাল নিয়ন্ত্রণ করার কথা আছে। অন্যভাবে বলতে গেলে দুই পক্ষই তাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।     

সুতরাং দুই নেতার মধ্যে উষ্ণতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলেও লবস্টার, গরুর সিনার মাংস এবং বেইজিং হাঁসের রোস্ট খাওয়ার মধ্যেই তাইওয়ান প্রশ্নে গুরুতর ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সমন্বিত একটি দল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখে তাইপেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তি অনুমোদন করার তাগাদা দিয়েছেন। ট্রাম্প এটি করলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের স্থিতিশীলতায় গুরুতর সংকট তৈরি করবে। 

শি জিনপিং তাঁর প্রত্যাশার জায়গা থেকে বলেন, এটি ‘বড় দেশগুলোর সম্পর্কে নতুন পথ উন্মোচন করবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব চীনের প্রেসিডেন্টের বারবার উল্লেখ করা ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’-এর মধ্যে নিহিত। থুসিডাইডিস ট্র্যাপ বলতে বোঝায় সেই চাপ ও উত্তেজনা, যা তৈরি হয় যখন কোনো উদীয়মান শক্তি প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ডাভোসে ফেব্রুয়ারিতে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেখানেও বিষয়টির উল্লেখ আছে। 

প্রশ্ন হলো, এখানে রাশিয়া কোথায়? রাশিয়ার অবস্থান এই প্রেক্ষাপটে বেশ জটিল। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক স্টেফান উলফ মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল হলে তা মূলত মস্কোর ক্ষতি এবং এটি তার দেশকে আবারও মহাশক্তিধর হিসেবে প্রতিষ্ঠার ভ্লাদিমির পুতিনের আকাঙ্ক্ষায় বড় ধাক্কা দেবে। সে জন্য ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ঘোষণা করেছেন, পুতিন শিগগিরই চীন সফর করবেন। উল্লেখ্য, শি ও ট্রাম্প বেইজিংয়ের টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করেছেন। এই সম্মান এখনও পুতিন পাননি। শি-পুতিনের ঘোষিত সীমাহীন বন্ধুত্ব আপাতত হুমকির মুখে নয়। তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অগ্রগতি হলে রাশিয়া এক ধরনের কূটনৈতিক একাকিত্ব অনুভব করবে। 

ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য এ সপ্তাহ সত্যিই হতাশাজনক ছিল। ৯ মে ছিল পুতিনের জন্য ‘রেড লেটার ডে’ বা রাশিয়ার বিজয় দিবস। কিন্তু এবারের মর্যাদাপূর্ণ দিবসটির উদযাপন রাশিয়ার জন্য এক প্রকার হতাশার ছিল। একদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার রাজধানীর কাছাকাছি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানে। যে কারণে পুতিনকে এবারের প্যারেড সীমিত করতে হয়েছে। সাধারণত যেখানে ট্যাঙ্ক, ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হয় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য, সেখানে এবারের আয়োজনে তা কমে দাঁড়িয়েছে কেবল একটি মার্চ-পাস্টে। উপস্থিত ছিলেন পুতিনের কয়েকজন মিত্র এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু প্রবীণ যোদ্ধা। অ্যাবেরিস্টউইথ ইউনিভার্সিটির জেনিফার ম্যাথার্স দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবসের প্যারেড পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর মতে, এবারের আয়োজনে রাশিয়াকে অনেকটা ‘ভীত, ক্ষীণ এবং বিচ্ছিন্ন’ দেখা গেছে।

জনাথান এসটে: জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সহযোগী সম্পাদক, দ্য কনভার্সেশন; ইংরেজি থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক

আরও পড়ুন

×