চারদিক
মাধ্যমিকে পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষক
রেজাউল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিসিএস (জেনারেল এডুকেশন) কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস, ১৯৮০ হলো সরকারি কলেজ ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষকদের নিয়োগ-পদোন্নতির বিধিমালা। এখানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের পদোন্নতির সুস্পষ্ট ধারার উল্লেখ আছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের একটি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সব পর্যায়ের শিক্ষকদের কোনো প্রকার পদোন্নতি নেই দীর্ঘদিন ধরে!
বিধিমালায় স্পষ্টভাবেই বলা আছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ সাত বছর পূর্ণ হলেই তারা সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পদোন্নতির এই ধারা অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে হবেন প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইত্যাদি। উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী, এভাবে পদোন্নতি পেয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদ পর্যন্তও যেতে পারবেন।
উপরোক্ত বিধিমালা ছাড়াও ‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০২১’-এও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রণীত এ বিধিমালা অনুযায়ী, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার’ পদে ৫০ শতাংশ পদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে বাকি ৫০ শতাংশ পদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে থেকে পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিকের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও একই নিয়োগবিধির আওতায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত বাকি ৫০ শতাংশ পদে তাদের পদায়ন করা হচ্ছে না, যা একই সঙ্গে বৈষম্যমূলক এবং শিক্ষা প্রশাসনে মেধাহীনতার সংস্কৃতিচর্চার নামান্তর।
‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০২১’ অনুযায়ী, ‘সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার’ পদের ২০ শতাংশ ১৩তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক-কাম প্রধান সহকারী, অডিটর, প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক, সাঁটলিপিকার-কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১৪তম গ্রেডভুক্ত উচ্চমান সহকারী ইত্যাদি পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে এবং বাকি ৮০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। কিন্তু এখানেও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদানের অভিজ্ঞতাহীন ১৩ ও ১৪তম গ্রেডভুক্ত উল্লিখিত কর্মচারীদের দ্বারা ‘সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার’ পদের ২০ শতাংশ পূরণ করা হলেও বাকি ৮০ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ না করে সেগুলোও চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে রাজস্ব খাত-বহির্ভূত প্রকল্প কর্মকর্তাদের দ্বারা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চলতি বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৮২ জন সাঁটলিপিকার-উচ্চমান সহকারীকে ‘সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার’ পদে পদোন্নতি দিলে সে সময় সারাদেশে সিদ্ধান্তটি সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। সামাজিক মাধ্যমসহ দেশের সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলে সে সময় শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এত সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার সিদ্ধান্তটি আর বাতিল করেনি। এভাবেই দিনে দিনে দেশের শিক্ষা প্রশাসনে শিক্ষায় অনভিজ্ঞরা সরাসরি প্রশাসক হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষায় যাদের যথাযথ সনদ ও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদানের অভিজ্ঞতা রয়েছে– প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরা যুগের পর যুগ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন!
রেজাউল ইসলাম: শিক্ষক
[email protected]
- বিষয় :
- চারদিক
