ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইসলাম ও সমাজ

মেঘ-বৃষ্টি আল্লাহর রহমত

মেঘ-বৃষ্টি আল্লাহর রহমত
×

মো. শাহজাহান কবীর

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

আকাশের বুক চিরে যখন কালো মেঘ ভেসে আসে; বাতাসে ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ ছড়ায় আর টিনের চালে টাপুরটুপুর বৃষ্টি নামে, তখন প্রত্যেক মুমিন হৃদয় বুঝতে পারে এটা মহান আল্লাহর দয়া; রহমত আর জীবনের নবায়ন। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি নদী যে পানির জন্য হাহাকার করে, সেই পানি আল্লাহ মেঘের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠান। তাই ইসলামে বৃষ্টিকে বলা হয়েছে রহমত।
মহান আল্লাহ সুরা আর-রুমের ৪৮ আয়াতে এরশাদ করেন– তিনিই আল্লাহ যিনি বাতাস পাঠান, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি একে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং একে খণ্ড-বিখণ্ড করেন। তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। এ আয়াতে মেঘ তৈরি থেকে বৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আল্লাহ নিজের দিকে নিসবত করেছেন। বিজ্ঞান আজ মেঘের ঘনীভবন, বাষ্পীভবন ব্যাখ্যা করলেও কে এই নিয়ম বানালেন, তার উত্তর কোরআনে ১৪০০ বছর আগেই দেওয়া হয়েছে। 

সুরা আন-নুরের ৪৩ আয়াতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন– তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে চালিত করেন, অতঃপর তাকে একত্র করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন। তারপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে বৃষ্টি নির্গত হয়।

জীবন ও রিজিকের উৎস হচ্ছে বৃষ্টি। পানি ছাড়া জীবন অচল।
মহান আল্লাহ এই সত্যটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আম্বিয়ার ৩০ আয়াতে ঘোষণা করেন– আমি পানি থেকে প্রতিটি প্রাণবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ইমান আনবে না? মেঘের বৃষ্টিই ফসলের জন্ম দেয়, নদী-নালা ভরায়, গবাদি পশুর পানি দেয়। মানুষের খাবার, কাপড়, ঘর; সবকিছুই পরোক্ষভাবে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এ জন্য মহান আল্লাহ নিজেকে ‘আর-রাজ্জাক’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। 
বৃষ্টি শুধু ফসলই দেয় না। এটি মানুষের অন্তরও সতেজ করে। দীর্ঘ খরার পর প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা যখন মাটিতে পড়ে তখন মানুষের মনে যে প্রশান্তি আসে, তা আল্লাহর রহমতের সরাসরি অনুভূতি।
রাসুলুল্লাহ (সা.)  বৃষ্টিকে রহমত হিসেবে দেখতেন এবং এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, বৃষ্টি দেখলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফি’আ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি একে উপকারী বৃষ্টিতে পরিণত করুন। (সহিহ বুখারি)

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, দুই সময়ের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। ১. আজানের সময় এবং ২. বৃষ্টির সময়। (আবু দাউদ) এ জন্য বৃষ্টির সময় আমরা নিজের, পরিবারের এবং পুরো উম্মাহর জন্য দোয়া করব, ইনশাআল্লাহ।

বৃষ্টিতে ভেজাও সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে ছিলাম। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি কাপড়ের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে বৃষ্টির পানি গায়ে লাগালেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন করলেন কেন? তিনি বললেন, কারণ এই বৃষ্টি এইমাত্র তার রবের কাছ থেকে এসেছে। (সহিহ মুসলিম)
তাই বৃষ্টি বেশি হলে, বন্যা বা ঝড় হলে রাসুলে কারিম (সা.) ভীত হয়ে যেতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখলে রাসুলুল্লাহর (সা.) চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত। তিনি এদিক-সেদিক পায়চারি করতেন। যখন বৃষ্টি হতো তখন তিনি স্বস্তি পেতেন। (সহিহ মুসলিম)

একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় বৃষ্টি হলে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়  করে আলহামদুলিল্লাহ বলা; পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া। মেঘ-বৃষ্টি আল্লাহর বড় নিয়ামত। এটি শুধু পানি নয়। এটি রহমত, তাওহিদের দলিল। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহমতের বৃষ্টি দান করুন এবং এর শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দিন।

ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল 
ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

আরও পড়ুন

×