মধ্যবর্তী নির্বাচন
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন
জশ পল
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ধোঁয়াশা কাটার পর দুটি বিষয় এখন স্পষ্ট। প্রথমত, ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে। দ্বিতীয়ত, আগামী দুই বছরের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট থাকছেন। এর অর্থ হলো, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সামনে আইন প্রণয়নের তিনটি পথ বা ক্ষেত্র খোলা থাকবে। প্রথম ক্ষেত্রটি হলো ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেসের ক্ষমতার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা; বিচার বিভাগে ট্রাম্পের মনোনীতদের বাধা দেওয়া; ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) আগ্রাসী অভিবাসী আটক অভিযান বন্ধ করা এবং ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদারক বা তদন্ত চালানো।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চক্র সামনে রেখে একটি ইতিবাচক নীতিমালার রোডম্যাপ তৈরি করা, যখন ট্রাম্পের নাম ব্যালট পেপারে থাকবে না। এটি মূলত সামাজিক ইস্যুভিত্তিক ‘মেসেজিং বিল’ বা জনমত গড়ার বিলের ওপর জোর দেবে। তবে এর মধ্যে কর সংস্কার প্রস্তাবের মতো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, মার্কিন বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের সংস্কার এবং ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সর্বশেষ বা তৃতীয় ক্ষেত্রটি হলো সেসব ইস্যু নিয়ে কাজ করা, যার পরিধি হয়তো সংকীর্ণ, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব। আমেরিকার ক্রমবর্ধমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের জন্য কিছু নীতিমালা বা সুরক্ষাকবচ তৈরি করা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যদিও ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের কয়েকজন এই অগ্রযাত্রাকে বানচাল করতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালাবেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে উত্থাপিত অনেক বিলই প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার মুখে পড়তে পারে। আবার অন্যান্য প্রস্তাবের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনা হতে পারে। কারণ প্রগতিশীল বামপন্থিদের উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা প্রতিরোধ করতে ডেমোক্রেটিক দলীয় এস্টাবলিশমেন্ট বা মূলধারাটি সক্রিয় থাকবে। এসব গতিশীলতার কারণে আসন্ন কংগ্রেসের সার্বিক কাজের উৎপাদনশীলতা বা কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ছাড়া কংগ্রেসের পক্ষে হাতেগোনা কয়েকটি বিল পাস করা সম্ভব। যেমন– প্রেসিডেন্টের সম্মতি ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করা সংক্রান্ত ‘ওয়ার পাওয়ারস’ আইন অথবা ইসরায়েলের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদন দাবির জন্য মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্রিস ভ্যান হোলেন কর্তৃক সম্প্রতি উত্থাপিত সিনেট প্রস্তাবনার মতো পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন কমিটির দেওয়া আইনি সমন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের অনিয়ম তদন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে, হোয়াইট হাউস এগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করবে বা বাধা দেবে। ফলে মাস বা বছরের পর বছর নিষ্ফল আইনি লড়াই বজায় থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান স্পিকারদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ছোট বা অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পিকারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কারণ এটি অল্পসংখ্যক সদস্যদের হাতে বড় ধরনের দরকষাকষির সুযোগ দেয়; তারা মূলত দলীয় ভোটের ভিত্তিতে হওয়া মৌলিক পদ্ধতিগত পদক্ষেপ থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার হুমকি দিতে পারে।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘ব্লু সুনামি’ বা বিপুল বিজয়ের ফলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এতটাই সুরক্ষিত যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের প্রগতিশীল বা বামপন্থি অংশকে খুব একটা ছাড় দিতে হবে না। এর ফলে আগামী দুই বছর, বিশেষ করে বাজেট-সংক্রান্ত বিল পাস করার ক্ষেত্রে দুপক্ষের মধ্যে বেশ টানাপোড়েন এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধ দেখতে পাওয়া যাবে।
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দখলের জন্য ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচারণায় সাফল্য এসেছে ঠিকই, তবে বিশেষ করে এমন এক অবাধ্য হোয়াইট হাউসের মুখে, যা কংগ্রেসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার দীর্ঘদিনের আইনি ঐতিহ্যকেও তোয়াক্কা করে না– তাদের এই সাফল্য এখনও অসম্পূর্ণ। একই সময়ে, ক্ষমতার বাইরে থাকা দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা এতদিন পররাষ্ট্রনীতি ও ইসরায়েলের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এড়াতে পেরেছিল।
কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা সবকিছু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এর অর্থ হলো, সংসদীয় শাখার সব সিদ্ধান্তের দায়ভার এখন তাদের কাঁধেই আসবে। তারা কি একটি অর্থবহ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে, নাকি মূলধারার রক্ষণশীলতার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকবে– তার ওপরেই নির্ভর করবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পথ কতটা জোরালো হবে।
জশ পল: অলাভজনক ও অরাজনৈতিক লবিং সংস্থা ‘এ নিউ পলিসি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা;
আলজাজিরা থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর
ইফতেখারুল ইসলাম
- বিষয় :
- নির্বাচন