পহেলা বৈশাখে ডিজিটাল সংস্কৃতি
অনলাইনে চাহিদা বাড়ছে
জাহেদুল ইসলাম
জাহেদুল ইসলাম, ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তবে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের আবেদন সব সময়ই ভিন্ন। তপ্ত রোদের দুপুরে রঙিন পোশাকে রমনার বটমূল কিংবা চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যেমন এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ঠিক তেমনি সময়ের সঙ্গে বদলেছে এর উদযাপনের অভ্যস্ততা।
কয়েক বছর ধরে নববর্ষ উদযাপনে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল সংস্কৃতির নতুন ধারা। নাগরিক ব্যস্ততা আর যানজট এড়িয়ে অনেকেই এখন ঘরে বসেই উৎসবের আমেজ উপভোগে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এমন রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে ফুডপ্যান্ডার মতো অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম। এসব পরিষেবার হাত ধরে উৎসবের দিনে ঘরে বসে পছন্দের খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার বিষয়টি এখন বাঙালি জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পহেলা বৈশাখ মানেই খাবারের বৈচিত্র্য। আগে উৎসব মানেই ছিল বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরে কর্মমুখর দিন কাটানো। কিন্তু বর্তমানের অনলাইন ডেলিভারি সংস্কৃতি সেই চিরচেনা চিত্রের ধারণা যেন দৃশ্যত বদলে দিয়েছে। রাজধানীর বাড্ডার বাসিন্দা সৈয়দা মৌ এবারের পরিকল্পনা নিয়ে বলছিলেন, আগে বৈশাখের দিনের অনেকটা সময় রান্নাঘরেই কেটে যেত। কিন্তু এখন আর সেই দুশ্চিন্তা নেই। স্বস্তি দিয়েছে দেশের প্রচলিত কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। গত বছর পহেলা বৈশাখে ফুডপ্যান্ডা থেকে কাচ্চি আর ফিরনি অর্ডার করেছিলাম। এবারও প্যান্ডামার্ট থেকে আগেই ইলিশ আর গ্রোসারি এনে রেখেছি। এতে বাড়তি খাটাখাটনি কমে যায়, পরিবারের সবার সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় পাওয়া যায়। মৌয়ের মতো হাজারো গ্রাহকের কাছে এখন উৎসবের আনন্দ মানেই রান্নার ঝামেলা এড়িয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। বিগত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নববর্ষের দিন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাবার অর্ডারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফুডপ্যান্ডা সূত্রে জানা গেছে, এই দিনে তেহারি, নান, চিকেন বিরিয়ানি ও কাচ্চির মতো খাবারের চাহিদা থাকে শীর্ষে।
তবে শুধু দেশি খাবারই নয়; তরুণ প্রজন্মের পছন্দের তালিকায় রয়েছে গ্রিল চিকেন, বার্গার, চিকেন ফ্রাই ও পিৎজার মতো ফাস্টফুড আইটেম। তীব্র গরমে উৎসবের ক্লান্তি দূর করতে কোমল পানীয় অর্ডারের চাপ থাকে অনেক বেশি। খাবারের সঙ্গে বৈশাখের আমেজ ঘরে পৌঁছে দিতে গ্রোসারি পণ্যের ক্ষেত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। ফুডপ্যান্ডার ডার্ক স্টোর প্যান্ডামার্ট থেকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ মাছসহ গ্রোসারি আইটেম কেনার চাহিদা থাকে বেশি।
অনলাইন ডেলিভারির এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপ সামলাতে হয় ডেলিভারি রাইডারদের। এর ফলে হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজধানী মোহাম্মদপুরের রাস্তায় ব্যস্ততার মধ্যে কথা বললেন ফুডপ্যান্ডার ডেলিভারি রাইডার এনামুল হক। কথায় কথায় তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবের দিনে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে আয়ও হয় বাড়তি। পহেলা বৈশাখে মানুষ যখন ঘরে বসে খুশিতে প্রিয়জনের সঙ্গে খাবার খায়, সেই আনন্দে অংশীজন হতে পেরে ভালো লাগে। তা ছাড়া ফুডপ্যান্ডা থেকে দেওয়া হয় বিশেষ বোনাস।
উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে দেশের প্রচলতি অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম বিশেষ ক্যাম্পেইন ও অফার দেয়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ফুডপ্যান্ডায় কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডারের ক্ষেত্রে ‘DEALNAO’ কোড ব্যবহার করে গ্রাহক ১৫০ টাকা মূল্যছাড়ের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ফুডপ্যান্ডা থেকে প্যান্ডাপ্রো সাবস্ক্রিপশন করে রেস্টুরেন্ট থেকে ডিলনাও কোড ব্যবহার করে ১৭৫ টাকা ছাড় উপভোগসহ আনলিমিটেড ফ্রি ডেলিভারি ও এক্সক্লুসিভ সব অফার পাওয়া যাবে। প্যান্ডামার্টে ইলিশ মাছ ছাড়াও বৈশাখী আয়োজনের সবকিছু কেনার ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ ছাড়।
যে কোনো উৎসব পারিবারিক ও সামাজিক মিলনের উপলক্ষ। পহেলা বৈশাখে অনেকে ঘরোয়াভাবে নানা আয়োজন করেন। ঘরে বানানো খাবারের সঙ্গে অনেকে আবার বাইরে থেকেও খাবার অর্ডার করেন। এ সময়ে অনলাইন ফুড ডেলিভারি মানুষকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন সময় বাঁচাতে আর স্বাচ্ছন্দ্যে প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা দিতে অনলাইন ডেলিভারির ওপরই বেশি ভরসা করছে। অনেকে বন্ধুরা মিলে এখন বাসায় বসেই বিরিয়ানি বা বার্গার অর্ডার করে বৈশাখ উদযাপন করেন। আমরা চেষ্টা করছি প্যান্ডামার্ট ও রেস্টুরেন্ট ডেলিভারির মাধ্যমে সময়ের এই চাহিদাকে আরও আনন্দময়, সহজ ও সাশ্রয়ী করতে।
- বিষয় :
- পহেলা বৈশাখ
- ফুডপ্যান্ডা