সাক্ষাৎকার
সামাজিক জীবনে বৈশাখ আছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নেই
মফিদুল হক
মফিদুল হক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৫ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
লেখক, গবেষক ও প্রকাশক মফিদুল হক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি। সাংগঠনিকভাবে যুক্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সমকাল: এ দেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের বলুন।
মফিদুল হক: বাঙালি সংস্কৃতি হাজার বছরের ধারাবাহিকতা। এই সংস্কৃতির ঐক্যের উপাদান ভাষা। হাজার বছর আগে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়ে তা নানা পর্বে বিকশিত হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির বড় দিক হচ্ছে এর সঙ্গে জনজীবনের সংশ্লিষ্টতা। যদি চর্যাপদকে বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ধরি তাহলে বলতে হয়, সেই ভাষা রাজসভার না; ছিল সাধারণ মানুষের। যে ভাষাটা মানুষ নিজের উপাসনার সংগীত হিসেবে ব্যবহার করেছে। বাংলা ভাষার বিকাশের পথে অনেক উপাদান এসে মিশেছে। ফলে মিলনে মিশ্রণে বিকশিত হয়েছে বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলা ভাষা। বহু উপাদান ধারণ করে একটি সম্প্রীতির জায়গা তৈরি হয়েছে এই ভাষা ও সংস্কৃতিতে।
সমকাল: পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আমরা সেই সম্প্রীতি ধরে রাখতে পারছি?
মফিদুল হক: পারছি না। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। আবার ঐতিহাসিকভাবেও সমাজ কোনো একক কাঠামো নয়। সেখানে নানা রকম বৈষম্য, বিভাজন থাকে। ইতিহাসের নানা উত্থান-পতন ঘটে। বিভিন্নভাবে বিযুক্তি তৈরি হয়। যেমন কাজের জন্য, অফিস-আদালত বা শিক্ষার জন্য আমাদের গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে হয়। ফলে অনেকে মনে করেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে মানুষের জীবনের দূরত্ব রয়েছে। নগর-গ্রামের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা, শিক্ষিত-নিরক্ষরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এর সবই অসম্প্রীতি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। যদি একটু গভীরে তাকাতে পারি তাহলে দেখতে পাব, এসব বিযুক্তিরও আগে কিন্তু ঠিকই সবকিছুতে সংযোগ রয়েছে। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে দিনক্ষণ জানতে চাইলে দেখবেন সে বলবে, অমুক ঝড়ের বছর মাঘ মাসে জন্ম বা সেই বড় বন্যার বছরে বৈশাখের ঘটনা। কেননা, এসব মানুষ জন্মগতভাবে এই ঋতুচক্রের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু আমাদের সমাজ জীবনে বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের স্বীকৃতি আছে; রাষ্ট্রীয় জীবনে নেই। এই দুটি নিয়ে আমরা চলছি। নানাভাবেই অসংহতি তৈরি হয়, যা সম্প্রীতিকে সুসংহত রাখতে দেয় না।
সমকাল: বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস সম্পর্কে বলুন।
মফিদুল হক: বৈশাখ সমাজ জীবনে সবসময় ছিল। এর সঙ্গে খাজনার সম্পর্ক ছিল। নতুন পঞ্জিকা প্রবর্তন করা হলো সম্রাট আকবরের সময়ে। ব্রিটিশরা এসেছিল কর সংগ্রহ করতে। সেই পদ্ধতির সঙ্গে বৈশাখ যুক্ত। ফলে আমাদের দলিল-দস্তাবেজে বাংলা সন খুব বড় বিষয়। এ ছাড়াও মানুষ নিজের নতুন বছরকে সবসময়ই আবাহন করেছে। এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পহেলা বৈশাখকেই উদযাপন করেছে। পাকিস্তান আমলেও দেখেছি হালখাতা ছিল। তখনও বৈশাখে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে। নাগরিক জীবনে নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখ একটু গৌণ হওয়া শুরু হলো। সেখান থেকে আবার দূরত্ব তৈরি হলো পাকিস্তান আমলে বিশেষভাবে সামরিক শাসনের পরে। সেই সময় বাঙালি সংস্কৃতির যে কোনো প্রকাশকেই ‘হিন্দুয়ানি’ বলে ট্যাগ করে দেওয়া হতো। ভাষা আন্দোলনের পরদিন মর্নিং নিউজের হেডলাইন লেখা হয়েছিল– ধুতিস রোমিং অন দ্য স্ট্রিট অব ঢাকা। মানে ঢাকার রাস্তায় ধুতি পরা লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এতে কি ভাষা আন্দোলন হিন্দু আন্দোলন হয়ে গিয়েছে? পহেলা বৈশাখকে হিন্দুয়ানি বললেই কি তা হয়ে যায়? পহেলা বৈশাখ হচ্ছে লোকায়ত উৎসব। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলেই এর অংশীদার। এর মধ্যে যে বাধা আসছে, তা ধর্ম ঘিরে সমাজে বিভাজন তৈরির রাজনীতি।
সমকাল: ‘মঙ্গল’ শব্দটি এ উৎসবের শোভাযাত্রায় ব্যবহার করা যাবে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৈশাখের আয়োজন কেন অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারা গেল না?
মফিদুল হক: পারিনি কেন বলছি? আমরা তো বাংলাদেশও সম্ভব করেছি। সেই দ্বি-জাতিতত্ত্বের রাষ্ট্র, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ– সবকিছুর বিরুদ্ধেই তো আমরা লড়াই করেছি। কী নিয়ে লড়াই করলাম? এই সমন্বিত সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়েই তো আমরা এগিয়েছি।
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শব্দ সম্পর্কে বলতে হয়, যখন যেমন সরকার এসেছে তখন সেভাবে পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমি এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না। ইরানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান তিন হাজার বছর আগের সভ্যতার ধারাবাহিকতা নিয়ে নওরোজ উদযাপন করে। আমাদেরও ধারাবাহিক সভ্যতা। নওরোজ ছিল প্রাক-ইসলামী যুগেরও অনেক আগের উৎসব। ইরান ছিল জরাথুস্ট্রের অনুসারী। একবার নওরোজ উৎসবের সময় ইরানে উপস্থিত থেকে দেখেছি নগরের মানুষ গ্রামে ফিরে যায় শিকড়ের কাছে। এর বড় কারণ পিতৃপুরুষের স্মৃতি তর্পণ। নওরোজের সময় কবরস্থানগুলো আলোকিত হয়ে ওঠে। তরুণেরা আগুন নিয়ে নৃত্য করে, রিং বানিয়ে ওর ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া করে। এই আগুন ব্যবহার করে খেলার ধারা এসেছে অগ্নি উপাসক জরাথুস্ট্রের মতবাদ থেকে। এতে কি ‘নওরোজ’ মুসলমানদের না হয়ে অগ্নি উপাসকদের উপাদান হয়ে গিয়েছে?

সমকাল: শোভাযাত্রার নামে মঙ্গল, আনন্দ, না বৈশাখী ব্যবহৃত হবে, সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব কি সরকারের?
মফিদুল হক: এটা কোন শোভাযাত্রা হবে, সেটি সমাজ থেকে নির্ধারিত হয়েছিল। চারুকলার নবীন শিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা মিলে প্রবর্তন করেছিল। মঙ্গল শব্দের মধ্যে সকলের কল্যাণ কামনার কথা রয়েছে। এখন যারা এটাকে হিন্দুয়ানি বলছে, তাদের মাতৃভাষা বাংলা। অন্তরে তারা তো মঙ্গলই উচ্চারণ করেন। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, প্রাচ্য হচ্ছে সমাজনির্ভর আর পাশ্চাত্য রাষ্ট্রনির্ভর। কিন্তু আমরা ক্রমশ রাষ্ট্রনির্ভরতার দিকেই চলেছি। এর কুফল হচ্ছে, সবকিছুতে মনে করি, এটা রাষ্ট্রের এখতিয়ার। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল উদ্যোগ ছিল চারুকলার। সামাজিক উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র হরণ করেছে। আমরাও সেটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু এর একটি পরম্পরা আছে। শোভাযাত্রায় যে মোটিফগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো লোকায়ত। জরাথুস্ট্রের আগুনের মতো ধর্মানুষঙ্গ থাকলেও তা ধর্মের সঙ্গে আর সম্পর্কিত না। এই যে সমাজ সৃজনশীলভাবে অনেক কিছু গ্রহণ করে, নবায়ন করে; এরই একটি উদাহরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা।
সমকাল: নতুন প্রজন্মের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বৈশাখ উদযাপন করলেও তাৎপর্য বুঝতে পারে না। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
মফিদুল হক: সেটা আমাদের দায়। শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা তরুণ ও নবীনকে সমাজ, দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারছি না। নতুন প্রজন্ম নতুনকে বরণ করবে, এটাই ধারা। দুই প্রজন্মের গ্রহণ-বর্জনে পার্থক্য তৈরি হবেই। এর মধ্য দিয়েই নতুন কিছু তৈরি হবে। এই যে মঙ্গল শোভাযাত্রা, এর উদ্যোগও তখনকার তরুণ প্রজন্মের ছিল। একুশে ফেব্রুয়ারির জন্ম যারা দিয়েছিল, তারাও তখনকার নতুন প্রজন্ম। এ দুটোই আমাদের সমাজের শক্তির প্রকাশ, ইতিহাসের গতিকে উদযাপন করছে। বর্তমানের তরুণরাও বর্ষবরণে অনেক কিছু সংযুক্ত করে চলেছে। এখন বৈশাখ জাতীয় উৎসবে পরিণত। যারা ব্যান্ড মিউজিক করে, তারাও হয়তো একটা গান তৈরি করে এই আবহে সম্পৃক্ত হয়। যেমন মাকসুদের ‘মেলায় যাইরে’ গানটি। একটা বড় পরিবর্তন ঘটছে ফ্যাশনে, যেটা আমাদের সময়ে ওভাবে ছিল না। এর মধ্যে যেমন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, আবার বৈশাখকে লাল-সাদা ব্র্যান্ডিং করার কৃতিত্বও তরুণদের আছে।
সমকাল: ২০১৬ সালে ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইনটেনজিবল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবার নিয়ে দুবার নাম বদলাল। তালিকায় থাকা কি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?
মফিদুল হক: আমরা নিজেদের যে কত ছোট করে আনছি, এটা তার এক উদাহরণ। নাম বদল মানে, সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা একটা উৎসবকে আত্মসাৎ করে নিচ্ছি। এ অধিকার তাদের নেই। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি মানে এটা বিশ্বজনীন স্বীকৃতি। এটা বাংলাদেশকে মহিমান্বিত করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে কার্নিভাল হয়। অনেক দেশ নতুন উৎসব উদযাপন করে। আমার প্রত্যাশা, কখন দেখব মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের সর্বজাতীয় উৎসবে রূপ পেয়েছে।
সমকাল: মঙ্গল শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।
মফিদুল হক: রিটকারীদের মানসিক দৈন্য এটা। আমার মনে হয়, এটা আদালত যথাযোগ্যভাবে সুরাহা করে দেবেন। আমাদের দেশের অন্যতম পণ্ডিত ছিলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। আরবি, উর্দুসহ কত ভাষা জানতেন! ইসলামী দর্শন জানতেন। তাঁর মতো জ্ঞানী খুব কমই ছিলেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯৪৮ সালে বলেছেন, ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বড় সত্য আমরা বাঙালি।’ পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে নিজের ভাষণে তিনি এটাও বলেছেন, ‘মা প্রকৃতি স্বয়ং আমাদের কপালে এই তিলকরেখা এঁকে দিয়েছেন। যা এই টুপি, দাড়ি বা টিকি, পৈতা দিয়ে ঢেকে রাখার জো টি নেই।’ আমার তো মনে হয়, এটাই আমার দেশের জাতিসত্তার মূল সত্য। সেই ১৯৪৮ সালে বলা কথাটিই ধারণ করে ১৯৭১-এ আমরা পৌঁছালাম স্বাধীনতায়। সেই অর্জনকে কেন এত সহজে বিসর্জন দেব?
সমকাল: ঐতিহ্য ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যায় কীভাবে?
মফিদুল হক: যথাযথভাবে স্বীয় ধর্ম পালন করা। এখানে সতর্ক থাকতে হবে– অপরকে ঘৃণা, বিদ্বেষ, আঘাত করার জন্য যেন আমি ধর্মকে ব্যবহার না করি। ঐতিহ্য আর ধর্মের মধ্যে বিরোধ নেই। ইসলামের বৈচিত্র্য অনেক। বহু ধর্মের বহু ধরনের মানুষ এসেছে ইসলামের ছায়াতলে। এটা ইসলামের শক্তি। ইসলাম কখনও কি মানুষকে নিজের ঐতিহ্য ভুলে যাওয়ার কথা বলেছে? অথচ পাকিস্তান নানাভাবে এটা প্রমাণের চেষ্টা করে– এ ভূখণ্ডের মুসলমানেরা হিন্দুদের দ্বারা প্রভাবিত। তাই তারা আধা মুসলমান। আমাদের দেশে সত্যিকারের ইসলামী পণ্ডিত, দার্শনিক, ধর্মের ব্যাখ্যাকারীর শূন্যতা রয়েছে। সত্যিকারের ধর্মীয় প্রাজ্ঞজনেরা হন সহনশীল। অথচ আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জে যেসব ভাষায় ইসলামকে ব্যাখ্যা করা হয়, সেই ভাষা হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ায়। তারা নিজেরা ভালো উপার্জন করে আর সাধারণ মানুষের মন কলুষিত করে।
সমকাল: আমাদের সংস্কৃতির সংকট নিয়ে বলুন।
মফিদুল হক: অনেক রকম বিচ্যুতি আর ব্যর্থতার সমন্বয়ে সংস্কৃতির সংকট হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে অর্থনীতি; সবই এর মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে। এর সুফল আছে, আবার সমাজে বৈষম্যও বেড়েছে। অনেক মানুষ শিক্ষাবৃত্তের মধ্যে এসেছে। আবার মেয়েরা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ঝরেও পড়ছে। নারীবিদ্বেষী একটা গোষ্ঠী সমাজে তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে যে সংস্কৃতি, সংগীতের সম্পর্ক, তার চর্চা হয় না। শিক্ষাক্ষেত্রে সমন্বিত কার্যক্রমের ঘাটতি হয়েছে। আমাদের মেয়েরা এখন ফুটবল খেলায় খুব ভালো করছে। কিন্তু সংস্কৃতির এমন একটা বিকাশ আমরা এখনও করে উঠতে পারিনি। নগরায়ণের ফলে শহরের অনেক ছেলেমেয়ে গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বিচ্যুত। তারা দেশের ঐতিহ্য, জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত নয়। অনেককে দেখি, যারা উত্তরা-গুলশানের বাইরে কোথাও যায় না। অথচ এই ঢাকা শহর চার শতাব্দীর ঐতিহ্য নিয়ে আছে। তারা যদি পুরান ঢাকায় গিয়ে হাঁটে, সে ঐতিহ্যের সন্ধান পায়।
সমকাল: সাংস্কৃতিক পরিচয় বিতর্কের একটি বড় অংশ ঘটে এখন অনলাইনে।
মফিদুল হক: এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হয়েছে হিংসা প্রচারের বড় বাহন। অফলাইন ও অনলাইনে সাংস্কৃতিক প্রকাশ মিলে আমরা সাংস্কৃতিক আবহকে কলুষিত করে রাখছি। এই আবহে সুন্দরের জায়গা তৈরি সহজ নয়। এতে রাষ্ট্রের মতো সমাজেরও দায় আছে। সেই দায়বদ্ধতা নিয়ে ভাবতে হবে। শিক্ষা ও সামাজিক আবহে সংস্কৃতির আরও বড় জায়গা করে দিতে হবে। যা কিছু মানুষের মনকে কলুষিত করে, সেগুলোকে যেন আমরা রুদ্ধ করতে পারি– এই প্রয়াসে সচেতন হতে হবে।
সমকাল: আপনাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
মফিদুল হক: আপনাদের সবার জন্য
নববর্ষের শুভেচ্ছা।
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার
- পহেলা বৈশাখ
